ট্যানারির বর্জ্য ব্যবহার করে তৈরি হচ্ছে মাছ ও মুরগির খাদ্য
ঢাকার সংসদ ভবনে প্রশ্নোত্তর পর্বে ট্যানারির বিষাক্ত বর্জ্য ব্যবহার করে তৈরি পোলট্রি ও মাছের খাদ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন সংরক্ষিত নারী আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনি। তিনি জানতে চান, এ ধরনের খাদ্য মানুষের মধ্যে ক্যানসারসহ বিভিন্ন জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে কি না এবং সরকার এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নিয়েছে বা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে কি না।
জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, বিষয়টির সত্যতা বিভিন্ন গবেষণা ও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণে ব্যবহৃত ক্রোমিয়ামসহ বিভিন্ন ভারী ধাতুসমৃদ্ধ বর্জ্য কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কম খরচে পোলট্রি ও মাছের খাদ্য তৈরিতে ব্যবহার করে থাকে।
মন্ত্রী জানান, এসব খাদ্য গ্রহণকারী মুরগির মাংস ও ডিমে ক্ষতিকর হেক্সাভ্যালেন্ট ক্রোমিয়াম জমা হতে পারে, যা সাধারণ রান্নার তাপেও ধ্বংস হয় না। পরবর্তীতে এসব খাদ্য মানুষ গ্রহণ করলে ক্যানসার, লিভারের জটিলতা, আলসার এবং কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার মতো স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তিনি বলেন, এ সমস্যা মোকাবিলায় সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন কার্যক্রম হাতে নিয়েছে।
এদিকে, হান্টাভাইরাস সংক্রমণ নিয়ে আরেক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সীমান্ত এলাকায় স্বাস্থ্য নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি যাত্রী স্ক্রিনিং, রোগ শনাক্তকরণ, চিকিৎসা প্রস্তুতি বৃদ্ধি এবং জনসচেতনতা কার্যক্রমও চালানো হচ্ছে।
সংসদে দেওয়া তথ্যমতে, দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে বর্তমানে চিকিৎসকের অনুমোদিত ৪১ হাজার ৮০৬টি পদের মধ্যে ৯ হাজার ৪০৭টি পদ শূন্য রয়েছে। এছাড়া নার্সের ৫ হাজার ৩২টি এবং স্বাস্থ্যকর্মীর ৮ হাজার ৭৮৪টি পদ খালি রয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে চিকিৎসকের ১৩ হাজার ২১১টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৭ হাজার ৪২৯ জন। ফলে ৫ হাজার ৭৮২টি পদ এখনও শূন্য। একইভাবে নার্স ও অন্যান্য কর্মচারীদের মধ্যেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পদ ফাঁকা রয়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান, ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতেও চিকিৎসক, মিডওয়াইফ এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীর বিপুল সংখ্যক পদ খালি রয়েছে, যা স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
সংরক্ষিত আসনের আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের ১৪ হাজার ৪৬০টি কমিউনিটি ক্লিনিক চালু রয়েছে। প্রতিটি ক্লিনিকে বছরে প্রায় ২ লাখ ৪৭ হাজার ৯০০ টাকার ওষুধ সরবরাহ করা হয়।
কুকুরের কামড়ে ব্যবহৃত অ্যান্টি-র্যাবিস ভ্যাকসিন নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে এ ভ্যাকসিনের কোনো ঘাটতি নেই। ইতোমধ্যে সারা দেশে ৫ লাখ ৫৮ হাজার ৭০০ ডোজ ভ্যাকসিন সরবরাহ করা হয়েছে এবং সরবরাহ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
প্রতি / এডি / শাআ










