পাগলা মসজিদের দানবাক্স খুলতেই মিলল ৪৩ বস্তা টাকা, চলছে গণনা

প্রকাশঃ জুন ২৭, ২০২৬ সময়ঃ ১১:০৪ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ১১:০৪ অপরাহ্ণ

কিশোরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী পাগলা মসজিদের ১৩টি দানবাক্স ছয় মাস পর শনিবার সকালে খোলা হয়েছে। দানবাক্স থেকে বের হওয়া অর্থ রাখতে এবার প্রয়োজন হয়েছে ৪৩টি বস্তা। বর্তমানে বিপুল পরিমাণ এই অর্থ গণনার কাজ চলছে।

সকাল ৭টার দিকে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন এবং মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে দানবাক্সগুলো খোলা হয়। গণনার কাজে অংশ নিয়েছেন প্রায় ৫০০ জন। তাদের মধ্যে রয়েছেন রূপালী ব্যাংকের প্রায় ১০০ কর্মকর্তা-কর্মচারী, দুটি মাদ্রাসার সাড়ে ৩০০ শিক্ষার্থী, মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্য এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

মসজিদের দ্বিতীয় তলায় শিক্ষার্থীরা প্রথমে বস্তা থেকে টাকা বের করে আলাদা আলাদা করে সাজিয়ে দিচ্ছেন। এরপর সেগুলো ব্যাংকের কর্মকর্তাদের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে। ব্যাংক কর্মকর্তারা মেশিনের মাধ্যমে টাকার পরিমাণ নির্ধারণ করছেন।

সংশ্লিষ্টদের ধারণা, ছয় মাস পর দানবাক্স খোলায় এবার প্রাপ্ত অর্থ আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে। পুরো কার্যক্রম জেলা প্রশাসক ও মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিন এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজমুস সাকিব খানের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে।

এ ছাড়া অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা গণনার কাজ তদারকি করছেন।

রূপালী ব্যাংকের এজিএম মোহাম্মদ আলী হারিছি জানান, নগদ টাকার পাশাপাশি বিদেশি মুদ্রা এবং স্বর্ণ-রূপার অলঙ্কারও পাওয়া গেছে। বিপুল পরিমাণ অর্থ থাকায় গণনা শেষ হতে সন্ধ্যা কিংবা রাত পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

পুরো কার্যক্রম ঘিরে মসজিদ এলাকায় নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পুলিশ, র‌্যাব ও আনসার সদস্যরা দানবাক্স খোলা থেকে শুরু করে অর্থ গণনা এবং ব্যাংকে জমা দেওয়া পর্যন্ত নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছেন।

কিশোরগঞ্জ শহরের হারুয়া এলাকায় নরসুন্দা নদীর তীরে অবস্থিত পাগলা মসজিদে প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষ দান করতে আসেন। নগদ অর্থ ছাড়াও এখানে স্বর্ণালংকার, বৈদেশিক মুদ্রা, গবাদিপশু ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী দান করা হয়। এসব সম্পদের পৃথক হিসাব সংরক্ষণ করা হয়।

জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন জানিয়েছেন, মসজিদের প্রয়োজনীয় ব্যয় মিটিয়ে অবশিষ্ট অর্থ ব্যাংকে জমা রাখা হয়। বর্তমানে দানের অর্থ হিসেবে ব্যাংকে শত কোটির বেশি টাকা জমা রয়েছে। এ ছাড়া বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালংকার জেলা প্রশাসনের ট্রেজারিতে সংরক্ষিত আছে। উপযুক্ত সময়ে নিলামের মাধ্যমে সেগুলো বিক্রি করে অর্থ ব্যাংকে জমা করা হবে।

তিনি আরও জানান, এই অর্থ জেলার বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও এতিমখানায় অনুদান, অসহায় মানুষের চিকিৎসা সহায়তা এবং বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজে ব্যয় করা হয়।

এদিকে পাগলা মসজিদকে কেন্দ্র করে একটি আধুনিক ইসলামিক কমপ্লেক্স নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে। প্রায় ১০ তলাবিশিষ্ট এ কমপ্লেক্সে একসঙ্গে ৪০ থেকে ৫০ হাজার মুসল্লির নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা থাকবে। পাশাপাশি নারী মুসল্লিদের জন্য আলাদা নামাজের স্থান, মাদ্রাসা, এতিমখানা, লাইব্রেরি, ক্যাফেটেরিয়া এবং আইটি সুবিধাসহ বিভিন্ন আধুনিক অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, সর্বশেষ গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর দানবাক্স খোলা হলে ১১ কোটি ৭৮ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩৮ টাকা পাওয়া যায়। এবার দানবাক্স খুলতে ৪৩টি বস্তা ব্যবহার হওয়ায় সংশ্লিষ্টদের ধারণা, দানের পরিমাণ আগেরবারের তুলনায় আরও বেশি হতে পারে। তবে গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত মোট টাকার পরিমাণ আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে না।

প্রতি / এডি / শাআ

আরো সংবাদঃ

আর্কাইভ

August 2026
SSMTWTF
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031 
20G