শেষ হচ্ছে শুল্কছাড়, জুলাই থেকে বাড়তে পারে আমদানিকৃত স্মার্টফোনের দাম

প্রকাশঃ জুন ২৯, ২০২৬ সময়ঃ ১১:০৩ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ১১:০৩ অপরাহ্ণ

আমদানিকৃত স্মার্টফোনে দেওয়া অস্থায়ী শুল্ক সুবিধার মেয়াদ ৩০ জুন শেষ হচ্ছে। ফলে আগামী জুলাই থেকে বিদেশ থেকে আনা বিভিন্ন ব্র্যান্ডের স্মার্টফোনের দাম বাড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অবৈধ বা গ্রে-মার্কেটের হ্যান্ডসেটের সঙ্গে বৈধ আমদানিকারকদের প্রতিযোগিতায় টিকিয়ে রাখতে চলতি বছরের জানুয়ারিতে সরকার আমদানি শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনে। এই সিদ্ধান্তের ফলে আমদানিকৃত স্মার্টফোনের কার্যকর করের হার প্রায় ৬৪ শতাংশ থেকে কমে ৪৩ দশমিক ৪৩ শতাংশে নেমে আসে। তবে এ সুবিধা ছিল সীমিত সময়ের জন্য, যার মেয়াদ শেষ হচ্ছে ৩০ জুন।

খাতসংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, শুল্ক আগের পর্যায়ে ফিরে গেলে প্রিমিয়াম ও ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোনের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাবে। এর প্রভাব পড়বে বিশেষ করে যেসব ব্র্যান্ডের ফোন পুরোপুরি আমদানির ওপর নির্ভরশীল।

মোবাইল ফোন ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এমআইওবি) সভাপতি জাকারিয়া শহিদ বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে মেমোরি চিপ, প্রসেসর, মাদারবোর্ড ও ব্যাটারিসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশের মূল্য ইতোমধ্যেই বেড়েছে। এর সঙ্গে আমদানি শুল্ক আবার বাড়লে উৎপাদন ও আমদানি ব্যয় আরও বৃদ্ধি পাবে। এতে শেষ পর্যন্ত স্মার্টফোনের দাম বাড়ানো ছাড়া বিকল্প থাকবে না। তার মতে, এমন পরিস্থিতিতে অনেক ক্রেতা আবারও অবৈধ বাজারের দিকে ঝুঁকতে পারেন।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) এক কাস্টমস কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বৈধ আমদানি এবং স্থানীয়ভাবে স্মার্টফোন উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যেই অস্থায়ী শুল্ক ছাড় দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কয়েক মাসের বাস্তবতায় দেখা গেছে, প্রত্যাশিত হারে আমদানি কিংবা স্থানীয় উৎপাদন কোনোটিই বাড়েনি। তাই বিশেষ সুবিধা আর বহাল রাখা হচ্ছে না।

বর্তমানে দেশে কম দামের এবং মধ্যম মূল্যের স্মার্টফোন সংযোজন শিল্প গড়ে উঠলেও অ্যাপল, গুগল, হুয়াওয়ে, মটোরোলা, স্যামসাং ও শাওমির মতো ব্র্যান্ডের উচ্চমূল্যের স্মার্টফোন আমদানিনির্ভর। ফলে শুল্ক বৃদ্ধি সরাসরি এসব ফোনের দামে প্রভাব ফেলতে পারে।

প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ফাহিম মাসরুরের মতে, বর্তমান সময়ে স্মার্টফোন বিলাসপণ্য নয়, বরং শিক্ষা, কর্মসংস্থান, ডিজিটাল ব্যাংকিং এবং ই-কমার্সসহ নানা সেবার অপরিহার্য মাধ্যম। তাই এই খাতে অতিরিক্ত কর আরোপ সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে।

খাতসংশ্লিষ্টরা জানান, চলতি বছরের শুরুতে শুল্ক কমানোর আগেই আন্তর্জাতিক বাজারে যন্ত্রাংশের মূল্য বৃদ্ধির কারণ দেখিয়ে অনেক প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন মডেলের ফোনের দাম ৫০০ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়িয়েছিল। এখন করের হার আবার বেড়ে গেলে বৈধ ও গ্রে-মার্কেটের ফোনের দামের ব্যবধান আরও বাড়তে পারে।

যদিও বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) অবৈধ মোবাইল শনাক্তে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) চালু করেছে, তবুও অবৈধ বাজার পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, করের চাপ বাড়লে বৈধ আমদানি আরও কমে যেতে পারে। এতে একদিকে সরকারের রাজস্ব আদায়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে, অন্যদিকে দেশে ডিজিটাল প্রযুক্তির বিস্তারও কিছুটা বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

প্রতি / এডি / শাআ

আরো সংবাদঃ

আর্কাইভ

October 2026
SSMTWTF
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31 
20G