অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিলেই ফাঁস ফ্ল্যাটজুড়ে সাপের খামার, উদ্ধার ৩০৯ পাইথন

প্রকাশঃ জুন ৩০, ২০২৬ সময়ঃ ১১:০৬ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ১১:০৬ অপরাহ্ণ

চীনের একটি আবাসিক ফ্ল্যাটে গোপনে শত শত পাইথন লালন-পালনের ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে বিদ্যুতের অস্বাভাবিক ব্যবহার তদন্ত করতে গিয়ে। এ ঘটনায় একজনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং আরেকজনের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিসিটিভির তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি দেশটির পূর্বাঞ্চলে ঘটেছে। আদালত এটিকে বিরল ও সংরক্ষিত বন্যপ্রাণীর জন্য গুরুতর ক্ষতিকর অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করেছে। চীনের আইনে পাইথন ‘গ্রেড-টু’ সুরক্ষিত প্রাণীর তালিকাভুক্ত। ফলে সরকারি অনুমতি ছাড়া এ ধরনের সাপ পালন, প্রজনন, বিক্রি বা পরিবহন করা আইনত নিষিদ্ধ।

ঘটনার শুরু ২০২৪ সালের মার্চ মাসে। ঝেজিয়াং প্রদেশের তাইঝৌ শহরের একটি পাহাড়ের পাদদেশে এক বাসিন্দা বড় আকৃতির একটি পাইথন দেখতে পেয়ে কর্তৃপক্ষকে খবর দেন। তদন্তকারীদের ধারণা হয়, সাপটি কোনো ব্যক্তিগত খামার বা সংগ্রহ থেকে পালিয়ে এসেছে। কারণ ওই এলাকায় স্বাভাবিকভাবে এমন সাপের দেখা মেলে না, বিশেষ করে বছরের ওই সময়ে।

তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ একজন সরীসৃপ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেয়। তিনি জানান, পাইথন সুস্থ রাখতে নির্দিষ্ট তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা বজায় রাখতে হয়, যার জন্য সার্বক্ষণিক বৈদ্যুতিক যন্ত্র চালু রাখতে হয়। ফলে এমন স্থানে বিদ্যুতের ব্যবহার স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

এরপর আশপাশের আবাসিক ভবনগুলোর বিদ্যুৎ ব্যবহারের তথ্য বিশ্লেষণ করে গুয়ো নামের এক ব্যক্তিকে সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। তিনি অবিবাহিত, বেকার এবং একাই একটি ফ্ল্যাটে থাকতেন। তদন্তে আরও জানা যায়, দি নামের আরেক ব্যক্তি নিয়মিত ওই বাসায় যাতায়াত করতেন এবং অনলাইনে কেনা সাদা ইঁদুর সংগ্রহ করতেন। বিক্রেতাদের তথ্য অনুযায়ী, এসব ইঁদুর সাধারণত সাপসহ বিভিন্ন সরীসৃপ প্রাণীর খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

তদন্তকারীরা আরও জানতে পারেন, গুয়ো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত পাইথনের ছবি প্রকাশ করতেন এবং মাঝে মধ্যে বিক্রির ইঙ্গিতও দিতেন। অনুসন্ধানে এমন একটি লেনদেনের তথ্যও মেলে, যেখানে দুটি পাইথন বিক্রি করা হয়েছিল এক হাজার ইউয়ানে।

এসব তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযানে নামে। গুয়োর ফ্ল্যাটে ঢুকে তারা দেখতে পায়, ঘরের বিভিন্ন স্থানে সারিবদ্ধভাবে রাখা অসংখ্য প্লাস্টিকের বাক্সে পৃথকভাবে পাইথন রাখা হয়েছে। নিজের ব্যবহারের জন্য একটি শোবার ঘর রেখে বাকি দুই শোবার ঘর ও বসার ঘর পুরোপুরি সাপ পালনের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছিল।

অভিযানে মোট ৩০৯টি পাইথন উদ্ধার করা হয়। পরে সেগুলো স্থানীয় একটি চিড়িয়াখানায় স্থানান্তর করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, সংরক্ষিত বন্যপ্রাণী অবৈধভাবে পালন ও বিক্রির অভিযোগে দুই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

প্রতি / এডি / শাআ

মন্তব্য করুনঃ

পাঠকের মন্তব্য

আরো সংবাদঃ

মন্তব্য করুনঃ

পাঠকের মন্তব্য



আর্কাইভ

20G