ক্রমশ কমছে গ্রাম-শহরের ব্যবধান, বদলে যাচ্ছে নগরের সংজ্ঞা
নগরায়ণের প্রভাব এখন আর কেবল বড় শহরগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা, শিল্পায়ন এবং প্রযুক্তির বিস্তারের ফলে শহরের বাইরের বহু অঞ্চলও দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। এমন বাস্তবতায় ‘শহর’ ও ‘গ্রাম’-এর প্রচলিত সংজ্ঞা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কয়েক দশক আগের জনবসতি ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ধরন বর্তমান সময়ের সঙ্গে অনেকটাই ভিন্ন। একসময় কৃষিনির্ভর হিসেবে পরিচিত অনেক এলাকা এখন শিল্প, সেবা খাত কিংবা বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। ফলে শুধু প্রশাসনিক পরিচয়ের ভিত্তিতে কোনো অঞ্চলকে গ্রাম বা শহর হিসেবে চিহ্নিত করা আগের মতো সহজ নয়।
বর্তমানে অনেক মানুষ গ্রামে বসবাস করলেও প্রতিদিন কাজের জন্য নিকটবর্তী শহর বা শিল্পাঞ্চলে যাতায়াত করছেন। একই সঙ্গে সড়ক, বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট এবং গণপরিবহনের উন্নতির কারণে বহু গ্রামীণ এলাকায় শহরের মতো সুযোগ-সুবিধা পৌঁছে গেছে। তবুও প্রশাসনিক নথিতে এসব অঞ্চল এখনও গ্রাম হিসেবেই রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই বাস্তবতা উন্নয়ন পরিকল্পনায় নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। কারণ শহুরে বৈশিষ্ট্য অর্জন করা অনেক এলাকা প্রয়োজনীয় অবকাঠামো বা বাজেট সুবিধা পাচ্ছে না। অন্যদিকে গ্রামীণ প্রশাসনিক কাঠামো দিয়ে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা ও সেবার চাহিদা সামাল দেওয়াও কঠিন হয়ে উঠছে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নগরায়ণের ধরনও পরিবর্তিত হচ্ছে। শহরের মূল কেন্দ্র থেকে বাইরে বিস্তৃত আবাসন, শিল্প করিডর এবং উপশহরভিত্তিক উন্নয়ন নতুন ধরনের জনবসতির জন্ম দিচ্ছে। এর ফলে শুধু একটি শহরের সীমানা নয়, পুরো অঞ্চলভিত্তিক পরিকল্পনার গুরুত্ব বাড়ছে।
ভারতে আসন্ন জনশুমারিকে এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, নতুন তথ্যের ভিত্তিতে শহর ও গ্রামের শ্রেণিবিন্যাসে পরিবর্তন এলে উন্নয়ন নীতি, সরকারি বিনিয়োগ এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায়ও বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
পরিবর্তিত এই বাস্তবতায় অনেকেই মনে করছেন, নগর ও গ্রামের প্রচলিত বিভাজনের বাইরে গিয়ে নতুন দৃষ্টিভঙ্গিতে জনবসতি ও উন্নয়নকে মূল্যায়ন করার সময় এসে গেছে।
প্রতি / এডি / শাআ









