গাড়ি বা বাইক না থাকলেও হচ্ছে এআই ট্রাফিক মামলা, জেনে নিন করণীয়

প্রকাশঃ মে ২৭, ২০২৬ সময়ঃ ১০:৪৮ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ১০:৪৮ অপরাহ্ণ

রাজধানীতে এআইনির্ভর ট্রাফিক নজরদারি ব্যবস্থা চালুর সুযোগ কাজে লাগিয়ে নতুন ধরনের প্রতারণায় নেমেছে একটি সাইবার চক্র। বিআরটিএ ও ট্রাফিক পুলিশের নাম ব্যবহার করে ভুয়া মামলা ও জরিমানার এসএমএস পাঠিয়ে সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত ও ব্যাংকিং তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। উদ্বেগের বিষয় হলো, যাদের কোনো গাড়ি বা মোটরসাইকেল নেই, তাদের কাছেও পাঠানো হচ্ছে তথাকথিত ‘স্পিডিং ফাইন’ সংক্রান্ত বার্তা।

মিরপুরের বাসিন্দা মাহফুজ পলাশ জানান, কয়েকদিন আগে তিনি বিআরটিএর নাম ব্যবহার করে একটি এসএমএস পান। সেখানে দাবি করা হয়, তার গাড়ি নির্ধারিত গতিসীমা অতিক্রম করেছে এবং এজন্য তাকে জরিমানা করা হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অর্থ পরিশোধ না করলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়।

তবে মাহফুজ পলাশের দাবি, তিনি দীর্ঘদিন ধরে গাড়ি চালালেও ট্রাফিক আইন সম্পর্কে যথেষ্ট সচেতন। তাই বার্তাটি তার কাছে সন্দেহজনক মনে হয়েছে। পরে তিনি জানতে পারেন, তার পরিচিত আরও অনেকেই একই ধরনের বার্তা পেয়েছেন এবং কেউ কেউ সেটিকে সত্যি ভেবে প্রতারণার শিকারও হয়েছেন।

শুধু গাড়ির মালিকই নন, এমন অনেক মানুষও একই ধরনের মেসেজ পেয়েছেন যাদের কোনো যানবাহনই নেই। গণমাধ্যমকর্মী ফৌজিয়া সুলতানা জানান, তার নিজের কোনো গাড়ি না থাকলেও তার ফোনে ট্রাফিক জরিমানার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি সংক্রান্ত একটি বার্তা আসে। সেখানে ভুয়া মামলার নম্বর, তারিখ, জরিমানা বৃদ্ধি এবং আদালতে পাঠানোর হুমকি দেওয়া হয়েছিল।

এসব বার্তায় সরকারি ওয়েবসাইটের আদলে তৈরি করা ভুয়া লিংক ব্যবহার করা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে ভিডিও সার্ভিলেন্স ক্যামেরার নম্বরও উল্লেখ করা হচ্ছে যাতে সাধারণ মানুষ সহজে বিভ্রান্ত হয়। প্রতারকরা দাবি করছে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জরিমানা পরিশোধ করলে ডিসকাউন্ট দেওয়া হবে। এই প্রলোভনে পড়ে অনেকে লিংকে প্রবেশ করে নিজেদের তথ্য দিয়ে দিচ্ছেন।

ব্যাংক কর্মকর্তা রাসেল আহমেদ জানান, এমন একটি বার্তা পেয়ে তিনি লিংকে প্রবেশ করেছিলেন। সেখানে গাড়ির নম্বর দেওয়ার পর তাকে জরিমানার পরিমাণ দেখানো হয় এবং দ্রুত পরিশোধ করলে অর্ধেক টাকা ছাড়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়।

সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব ওয়েবসাইট মূলত ফিশিং সাইট। ব্যবহারকারীরা সেখানে নাম, গাড়ির তথ্য, ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড নম্বর এবং সিভিভি কোড দিলে প্রতারকরা তা ব্যবহার করে অর্থ হাতিয়ে নিতে পারে।

প্রযুক্তিবিদদের ভাষ্য, সরকারি কোনো ওয়েবসাইটের ঠিকানার শেষে সাধারণত “.gov.bd” থাকে। কিন্তু এসব প্রতারণামূলক লিংকে সেই ডোমেইন ব্যবহার করা হয়নি। এছাড়া বার্তাগুলো বেশিরভাগই বিদেশি নম্বর, বিশেষ করে +৬৩ কোডযুক্ত নম্বর থেকে পাঠানো হচ্ছে, যা ফিলিপাইনের কান্ট্রি কোড।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, অপরিচিত নম্বর থেকে এ ধরনের এসএমএস এলে কোনোভাবেই লিংকে ক্লিক করা উচিত নয়। কারণ একবার তথ্য দিলে ব্যবহারকারী সহজেই ফিশিং আক্রমণের শিকার হতে পারেন।

এদিকে, বিষয়টি নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছে বিআরটিএ ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। বিআরটিএ জানিয়েছে, তাদের সার্ভিস পোর্টালের আদলে তৈরি ভুয়া ওয়েবসাইট ব্যবহার করে প্রতারণা করা হচ্ছে এবং এসব সাইটের সঙ্গে সরকারি ব্যবস্থার কোনো সম্পর্ক নেই। জনগণকে এসব লিংক এড়িয়ে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ডিএমপিও জানিয়েছে, ভুয়া এসএমএসের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। সংস্থাটি বলছে, সড়ক পরিবহন আইন অনুযায়ী কোনো মামলা হলে তা লিখিতভাবে সংশ্লিষ্ট মালিক বা চালকের ঠিকানায় পাঠানো হয়। প্রয়োজনে ট্রাফিক বিভাগের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট সরকারি নম্বর ব্যবহার করে যোগাযোগ করা হয়।

পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কেউ যদি এ ধরনের প্রতারণার শিকার হয়ে থাকেন তাহলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা নেওয়া উচিত।

প্রতি / এডি / শাআ

আরো সংবাদঃ

[fbcomments]

আর্কাইভ

July 2026
SSMTWTF
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031
20G