চকবাজার অগ্নিকাণ্ড সম্পর্কে বললেন প্রত্যক্ষদর্শীরা

প্রকাশঃ ফেব্রুয়ারি ২১, ২০১৯ সময়ঃ ১২:০৩ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ১২:০৩ অপরাহ্ণ

পুরান ঢাকার চকবাজারের পাঁচটি ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ পর্যন্ত ৭৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে ধারণা করছেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা।

বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে প্রথমে একটি ভবনে লাগা আগুন পাশের আরো চারটি ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনে দগ্ধ ও আহত হয়েছেন পথচারীসহ অর্ধ শতাধিক। আজ বৃহস্পতিবার সকালে আগুন পুরোপুরি না নিভলেও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।

এ বিষয়ে সরেজমিনে গেলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পুরান ঢাকায় নন্দকুমার সড়কের চুড়িহাট্টায় বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে শাহী মসজিদের সামনে একটি বৈদ্যুতিক খুটির ট্রান্সফরমার বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। এরপরই পাশের খুটির আরো দুটি ট্রান্সফরমার বিস্ফোরণের শব্দ তারা শুনেছেন। তারা বলেন, মুহূর্তেই আগুন লাগে জামাল কমিউনিটি সেন্টারে। আগুনের ভয়াবহতা এতো বেশি ছিল যে সে আগুন ছড়িয়ে পড়ে পাশের চারতলা ওয়াহিদ ম্যানশনে। ভবনটির প্রথম দুইতলায় প্রসাধন সামগ্রী, প্লাস্টিকের দানা ও রাসায়নিক দাহ্য পদার্থের গুদাম থাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়ে পাশের আরো চারটি ভবনে। পাশের কয়েকটি খাবারের হোটেলের গ্যাস সিলিন্ডারেরও বিস্ফোরণ ঘটে। পুড়ে যায় সড়কে থাকা একটি প্রাইভেট কারসহ কয়েকটি যানবাহন। এসময় পুড়ে যাওয়া কয়েকটি মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখা গেছে।
প্রায় পাঁচ ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয় ফায়ার সার্ভিস। রাজধানীর প্রায় সবকটা ইউনিট কাজ করে আগুন নেভাতে। খুবই ঘন বসতি এবং রাস্তা সরু হওয়ায় আগুন নেভাতে বেগ পেতে হয় ফায়ার সার্ভিসকে।

ঘটনাস্থলে দায়িত্বপালন করা ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মকর্তা জানান, যেহেতু এখানে দাহ্য রাসায়নিক পদার্থ আছে, এগুলো খুবই বিস্ফোরণ ঘটছে। এগুলোর টেম্পার অনেক বেশি। এগুলোর সাথে প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করে আমাদের ফায়ার ফাইটিং করতে হচ্ছে। রেসিডেনশিয়াল এরিয়াতে কোনো কেমিক্যালের গোডাউন থাকার কথা না।

চকবাজার এলাকার বিদ্যুৎ ও গ্যাস লাইন সংযোগ সাময়িক বিচ্ছিন্ন করে আশপাশের ভবনের বাসিন্দাদের নিরাপদে সরিয়ে দিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।

ফায়ার সার্ভিসের দায়িত্বরত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৩৭টি ইউনিট একযোগে কাজ করেছে। আশপাশের ভবনগুলো খালি করে সেখানকার বাসিন্দাদের অন্য জায়গায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

এদিকে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের নিয়ন্ত্রণ কক্ষে দায়িত্বরত কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান বার্তা সংস্থা ইউএনবিকে জানান, বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে পাঁচতলা ভবনের নিচতলায় রাসায়নিক গোডাউন থেকে এ আগুনের সূত্রপাত হয়। পরবর্তীতে মুহূর্তেই পাশের ভবনগুলোতে এ আগুন ছড়িয়ে পড়ে।

বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা ২৩ মিনিটে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সদরদপ্তরের উপপরিচালক (অপারেশন্স ও মেইনটিনেন্স) দিলীপ কুমার ইউএনবিকে বলেন, ভোর ৩টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা গেলেও অন্য ভবনগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ায় আগুন পুরোপুরি নেভাতে সময় লাগবে।

নিয়ন্ত্রণ কক্ষের কর্তব্যরত কর্মকর্তা মাহফুজ রিভান বলেন, এখন পর্যন্ত ৬৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়ছে।

আরো সংবাদঃ

আর্কাইভ

October 2026
SSMTWTF
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31 
20G