টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক নিয়ে নতুন বার্তা দিল বিএসটিআই

প্রকাশঃ জুলাই ৩১, ২০২৬ সময়ঃ ১০:১১ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ১০:১১ অপরাহ্ণ

দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া কয়েকটি টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক থাকার দাবি ঘিরে জনমনে উদ্বেগ তৈরি হলেও বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) জানিয়েছে, এ মুহূর্তে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। সংস্থাটি বলেছে, বৈজ্ঞানিকভাবে বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজন হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বিএসটিআই জানায়, একটি গবেষণা প্রতিবেদনে বাজারে প্রচলিত কয়েকটি টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতির দাবি ওঠার পর তারা নিজস্ব উদ্যোগে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার কাজ শুরু করেছে। এটি এ বিষয়ে বিএসটিআইয়ের দ্বিতীয় আনুষ্ঠানিক বিবৃতি।

সংস্থাটির ভাষ্য, পরীক্ষায় যদি কোনো টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক বা মাইক্রোবিডের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়, তাহলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিএসটিআই জানায়, মাইক্রোপ্লাস্টিক হলো প্লাস্টিকজাত অতিক্ষুদ্র কণা, যা পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য সম্ভাব্য ঝুঁকি হিসেবে বিশ্বব্যাপী আলোচিত। এ কারণেই অনেক দেশে এসব উপাদানের ব্যবহার সীমিত বা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

বাংলাদেশে টুথপেস্ট উৎপাদনের ক্ষেত্রে বিডিএস ১২১৬:২০১২ মানদণ্ড অনুসরণ বাধ্যতামূলক। এই মানদণ্ড অনুযায়ী পণ্যে ক্ষতিকর রাসায়নিক, বিষাক্ত উপাদান এবং জীবাণুর উপস্থিতি পরীক্ষা করা হয়।

বিএসটিআই আরও জানায়, দেশে অনুমোদিত টুথপেস্ট উৎপাদনের ৮১টি উপাদানের তালিকায় মাইক্রোপ্লাস্টিকের কোনো অনুমোদন নেই। তাই উৎপাদন প্রক্রিয়ায় ইচ্ছাকৃতভাবে এ উপাদান ব্যবহারের সুযোগ নেই বলেই সংস্থাটির ধারণা। পাশাপাশি কণার ধরন, উৎস, পরিমাণ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ ছাড়া কোনো ব্র্যান্ডকে অনিরাপদ ঘোষণা করা বৈজ্ঞানিকভাবে সঠিক নয় বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে একটি বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, বাজারে প্রচলিত ১৯টি ব্র্যান্ডের ৩৪টি টুথপেস্টের নমুনার মধ্যে ২৬টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে ২০ থেকে ৩২০টি পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে এবং শিশুদের জন্য বাজারজাত কয়েকটি টুথপেস্টেও এ উপাদানের উপস্থিতি মিলেছে।

তবে গবেষণা পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান স্পষ্ট করেছে, তাদের উদ্দেশ্য কোনো নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডকে দায়ী করা নয়। বরং টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের গ্রহণযোগ্য সীমা নির্ধারণ, পরীক্ষার মানদণ্ড তৈরি এবং পণ্যের লেবেলে উপাদান উল্লেখ বাধ্যতামূলক করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা।

ভোক্তাদের উদ্দেশে বিএসটিআই পরামর্শ দিয়েছে, টুথপেস্ট কেনার আগে উৎপাদনের তারিখ, মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ এবং বিএসটিআইয়ের সিএম লাইসেন্স নম্বর যাচাই করা উচিত। পাশাপাশি অজানা বা অনুমোদনহীন ব্র্যান্ডের পণ্য ব্যবহার না করা, টুথপেস্ট গিলে না ফেলা এবং গুজব বা অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

এ ছাড়া জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় দেশীয় ও আমদানিকৃত টুথপেস্টের বাজার তদারকি এবং মান যাচাই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছে বিএসটিআই।

প্রতি / এডি / শাআ

আরো সংবাদঃ

আর্কাইভ

July 2026
SSMTWTF
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031
20G