নতুন পে স্কেল ঘিরে বাড়ছে উদ্বেগ

প্রকাশঃ জুন ৩, ২০২৬ সময়ঃ ১১:৩৬ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ১১:৫৫ অপরাহ্ণ

নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে আলোচনা যেমন বাড়ছে, তেমনি তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তাও। আসন্ন জাতীয় বাজেটে নতুন বেতন কাঠামোর জন্য বড় অঙ্কের বরাদ্দ রাখা হতে পারে বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। তবে এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে স্পষ্ট ঘোষণা না আসায় কর্মচারীদের মধ্যে শঙ্কা কাটছে না।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, নতুন পে স্কেলের জন্য প্রায় ৩০ থেকে ৩৭ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী বাজেট অধিবেশনে এ বিষয়ে চূড়ান্ত চিত্র সামনে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতিনিধিরা বলছেন, পে স্কেল নিয়ে এখন পর্যন্ত যেসব তথ্য সামনে এসেছে, তার বেশিরভাগই বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনের মাধ্যমে। সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সুস্পষ্ট নির্দেশনা বা ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক আবদুল মালেক এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চাকরিজীবীরা নতুন পে স্কেলের অপেক্ষায় আছেন। কিন্তু সরকারিভাবে পরিষ্কার কোনো বক্তব্য না আসায় অনেকের মধ্যেই সন্দেহ তৈরি হয়েছে, আদৌ ১ জুলাই থেকে এটি কার্যকর হবে কি না।

তিনি আরও বলেন, অতীতে পে স্কেল বাস্তবায়নের আগে সরকার থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ও দিকনির্দেশনা দেওয়া হতো। এবার এখনো সে ধরনের কোনো পরিষ্কার বার্তা পাওয়া যায়নি। এতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

এদিকে সংগঠনটির পক্ষ থেকে নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের উদ্যোগকে স্বাগত জানানো হলেও প্রথম ধাপেই শতভাগ বেসিক বেতন কার্যকরের দাবি জানানো হয়েছে।

সংগঠনের নেতারা বলেন, গত এক দশকের বেশি সময় ধরে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বেতনে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসেনি। ফলে অনেক কর্মচারীকে বাড়তি আয়ের জন্য অতিরিক্ত কাজ করতে হচ্ছে।

তাদের দাবি, অতীতের বিভিন্ন পে স্কেলের সময় প্রথম ধাপে পূর্ণ বেসিক বেতন কার্যকর করা হতো এবং পরে অন্যান্য ভাতা সমন্বয় করা হতো। এবারও একই পদ্ধতি অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, পুরো পে স্কেল একসঙ্গে বাস্তবায়নের পরিবর্তে ধাপে ধাপে কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রাথমিকভাবে আগামী অর্থবছরে মূল বেতনের ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি কার্যকর হতে পারে। এরপর পরবর্তী বছরে বাকি অংশ যোগ করা হবে। সবশেষ ধাপে বিভিন্ন ভাতা ও আনুষঙ্গিক সুবিধা চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

জানা গেছে, আগামী ৭ জুন সংসদের বাজেট অধিবেশন শুরু হবে এবং ১১ জুন নতুন অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করা হতে পারে। সেদিনই নতুন পে স্কেল নিয়ে বরাদ্দ ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ পেতে পারে।

অর্থনৈতিক চাপ ও সামগ্রিক আর্থিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়েই ধাপে ধাপে পে স্কেল বাস্তবায়নের কৌশল নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি।

প্রতি / এডি / শাআ

আরো সংবাদঃ

[fbcomments]

আর্কাইভ

July 2026
SSMTWTF
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031
20G