নতুন বাজেটে বাড়তে পারে যেসব পণ্যের দাম

প্রকাশঃ জুন ৯, ২০২৬ সময়ঃ ১১:০৮ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ১১:০৮ অপরাহ্ণ

আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে স্থানীয় শিল্পকে সুরক্ষা ও দেশীয় উৎপাদন বাড়াতে বেশ কিছু আমদানিনির্ভর পণ্যের ওপর কর ও শুল্ক বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে বিভিন্ন খাতে করছাড় ও ভ্যাট সুবিধাও দেওয়া হতে পারে। তবে নতুন করনীতির প্রভাবে বাজারে কয়েকটি পণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে জানা গেছে, সরকারের মূল লক্ষ্য হচ্ছে বিদেশি পণ্যের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে স্থানীয় উৎপাদনকে উৎসাহ দেওয়া। এ কারণে কিছু আমদানি পণ্যে অতিরিক্ত শুল্ক, ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক আরোপের চিন্তা করা হচ্ছে।

কাজুবাদামে বাড়তে পারে শুল্ক

দেশে কাজুবাদাম চাষ সম্প্রসারণের কারণে স্থানীয় উদ্যোক্তাদের সুরক্ষা দিতে আমদানি করা কাজুবাদামের ওপর শুল্ক বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। বর্তমানে পাঁচ শতাংশ শুল্ক থাকলেও তা বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হতে পারে। এতে বিদেশি কাজুবাদামের দাম বাজারে বেড়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশীয় কাজুবাদামের বাজার সম্প্রসারণের লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

আমদানি করা মাছের দাম বাড়ার শঙ্কা

দেশীয় মৎস্য খাতকে সুরক্ষা দিতে কিছু আমদানি করা মাছের ওপর নতুন কর আরোপের পরিকল্পনা করা হয়েছে। বিশেষ করে পাঙাস ফিলেট আমদানিতে ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক বসানোর আলোচনা রয়েছে। পাশাপাশি উচ্চমূল্যের হিমায়িত মাছের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হতে পারে।

এতে বিদেশি সামুদ্রিক মাছ ও প্রিমিয়াম শ্রেণির মাছের দাম বাড়তে পারে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।

সিগারেট ও তামাকপণ্যে বাড়তি কর

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার যুক্তিতে তামাকজাত পণ্যের ওপর আরও কর বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রতি প্যাকেট সিগারেটের দাম পাঁচ থেকে সাত টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে।

এ ছাড়া সিগারেট তৈরিতে ব্যবহৃত ফিল্টার পেপার ও নিকোটিন আমদানিতেও উচ্চহারে সম্পূরক শুল্ক আরোপের চিন্তা করছে সরকার। নিকোটিন পাউচের ওপরও অতিরিক্ত কর বসতে পারে।

বাজারসংশ্লিষ্টদের ধারণা, এর প্রভাবে বিভিন্ন তামাকজাত পণ্যের দাম আরও বাড়বে।

বিদেশি মদের বাজারেও প্রভাব

বিদেশি মদের ওপর বিদ্যমান উচ্চ শুল্কের পাশাপাশি নতুন অর্থবছরে করের চাপ আরও বাড়ানো হতে পারে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রায়ত্ত কেরু অ্যান্ড কোম্পানির উৎপাদিত মদের ওপরও নির্দিষ্ট হারে ভ্যাট আরোপের আলোচনা চলছে।

ফলে দেশি ও বিদেশি উভয় ধরনের মদের দাম বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

নির্মাণ ব্যয় বাড়ার আশঙ্কা

নির্মাণ খাতের গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ এমএস রডের ওপর অতিরিক্ত কর ও ভ্যাট আরোপের পরিকল্পনা রয়েছে। উৎপাদন পর্যায়ে নতুন কর কার্যকর হলে রডের দাম বাড়তে পারে।

শিল্পসংশ্লিষ্টদের মতে, এর প্রভাব আবাসন খাতসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ ব্যয়ের ওপর পড়তে পারে।

বিদেশি প্রসাধনী হতে পারে আরও ব্যয়বহুল

দেশীয় প্রসাধনী শিল্পকে প্রতিযোগিতায় টিকিয়ে রাখতে বিদেশি ব্র্যান্ডের কসমেটিকস ও স্কিনকেয়ার পণ্যের ওপর কর বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। এতে আমদানিকৃত সৌন্দর্যপণ্যের দাম বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিশেষ করে প্রিমিয়াম ও বিলাসী প্রসাধনীর বাজারে এর প্রভাব বেশি পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বাড়তি খরচ হতে পারে বিলাসী খাদ্যপণ্যে

বিভিন্ন আমদানিনির্ভর প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য ও উচ্চমূল্যের ভোগ্যপণ্যের ওপরও অতিরিক্ত কর আরোপের পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে এসব পণ্য কিনতে ভোক্তাদের আগের তুলনায় বেশি খরচ করতে হতে পারে।

কেন বাড়ানো হচ্ছে কর?

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের ভাষ্য, সরকারের উদ্দেশ্য শুধু রাজস্ব বাড়ানো নয়, বরং দেশীয় শিল্পকে শক্তিশালী করা এবং অপ্রয়োজনীয় আমদানি কমানো। বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ কমিয়ে স্থানীয় উৎপাদন বাড়ানোকে এখন অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

এই নীতির অংশ হিসেবেই বিদেশি ও বিলাসী পণ্যের ওপর কর বাড়িয়ে দেশীয় পণ্যের বাজার সম্প্রসারণের চেষ্টা চলছে।

ভোক্তাদের জন্য কী বার্তা?

নতুন বাজেট কার্যকর হলে বাজারে মিশ্র প্রভাব দেখা যেতে পারে। দেশীয়ভাবে উৎপাদিত কিছু পণ্যের দাম কমতে পারে, আবার আমদানিনির্ভর ও বিলাসী পণ্যের দাম বাড়তে পারে।

ফলে বিদেশি প্রসাধনী, আমদানি করা মাছ, কাজুবাদাম, সিগারেট, মদ ও প্রিমিয়াম খাদ্যপণ্য ব্যবহারকারীদের ব্যয় বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে স্থানীয় শিল্পের বিকাশ, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগ বাড়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রতি / এডি / শাআ

আরো সংবাদঃ

[fbcomments]

আর্কাইভ

July 2026
SSMTWTF
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031
20G