শহীদুলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে কোনো বাধা থাকলো না

প্রকাশঃ মার্চ ৫, ২০১৭ সময়ঃ ২:৫৩ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ২:৫৩ অপরাহ্ণ

রাজধানীর গুলশানের নিজ বাড়িতে শাজনীন তাসনিম রহমানকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত শহীদুল ইসলামের (শহীদ) রিভিউ আবেদন খারিজ করেছেন আপিল বিভাগ। এর ফলে তাঁর দণ্ডাদেশ কার্যকরে আর কোনো বাধা থাকল না।

আজ রোববার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এস কে) সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের তিন সদস্যের বেঞ্চ এ রায় দেন।
এর আগে গত বছরের ২ আগস্ট আপিল বিভাগ শাজনীন হত্যা মামলার চূড়ান্ত রায় দেন। রায়ে আসামি শহীদুলকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়। চারজনকে খালাস দেওয়া হয়।

খালাস পাওয়া চারজন হলেন বাড়ির সংস্কারকাজের দায়িত্ব পালনকারী ঠিকাদার সৈয়দ সাজ্জাদ মইনুদ্দিন হাসান ও তার সহকারী বাদল, বাড়ির গৃহপরিচারিকা দুই বোন এস্তেমা খাতুন (মিনু) ও পারভীন।

১৯৯৮ সালে শাজনীন হত্যাকাণ্ডের প্রায় ১৮ বছর পর ২ আগস্ট রায় ঘোষণা করা হয়।

২০১৬ সালের ১১ মে ওই বৃহত্তর বেঞ্চেই আসামিদের আপিল শুনানি শেষে রায় অপেক্ষমাণ রাখা হয়। বাদীপক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী নজরুল ইসলাম চৌধুরী। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী এ এম আমিনউদ্দিন, এ এস এম আবদুল মবিন ও সরোয়ার আহমেদ। আসামিপক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন, এস এম শাহজাহান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল খোন্দকার দিলীরুজ্জামান।

১৯৯৮ সালের ২৩ এপ্রিল রাতে গুলশানে নিজ বাড়িতে খুন হন শাজনীন তাসনিম রহমান। পরদিন শাজনীনের বাবা ট্রান্সকম গ্রুপের চেয়ারম্যান লতিফুর রহমান গুলশান থানায় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় একটি হত্যা মামলা করেন।

একই বছরের ৪ সেপ্টেম্বর ঐ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি ধর্ষণ ও হত্যা মামলা করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তদন্ত শেষে প্রথম মামলায় ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত-১ এবং দ্বিতীয় মামলায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। দুটি মামলাতেই আদালত অভিযোগ গঠন করেন।

২০০৩ সালের ২ সেপ্টেম্বর ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতের বিচারক কাজী রহমতউল্লাহ মামলাটির রায় ঘোষণা করেন। রায়ে শাজনীনকে ধর্ষণ ও খুনের পরিকল্পনা এবং সহযোগিতার দায়ে ছয় আসামিকে ফাঁসির আদেশ দেন আদালত।

বিচারিক আদালতের রায়ের পর মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের (ডেথ রেফারেন্স) জন্য মামলাটি হাইকোর্টে যায়। একই সঙ্গে আসামিরাও আপিল করেন। ২০০৬ সালের ১০ জুলাই হাইকোর্ট পাঁচ আসামি হাসান, শহীদ, বাদল, মিনু ও পারভীনের ফাঁসির আদেশ বহাল রাখেন।

এর পর হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন (লিভ টু আপিল) করেন চার আসামি হাসান, বাদল, মিনু ও পারভীন। ২০০৯ সালের ২৬ এপ্রিল সাজাপ্রাপ্ত চার আসামির লিভ টু আপিল মঞ্জুর করেন আপিল বিভাগ। ফাঁসির আদেশ পাওয়া আরেক আসামি শহীদ জেল আপিল করেন। আপিল শুনানি শেষে
রাজধানীর গুলশানের নিজ বাড়িতে শাজনীন তাসনিম রহমানকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় গৃহভৃত্য শহীদুল ইসলামের (শহীদ) মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রাখা হয়।

প্রতিক্ষণ/এডি/অনু

আরো সংবাদঃ

সর্বশেষ সংবাদ

আর্কাইভ

October 2026
SSMTWTF
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31 
20G