৩০ বিশ্ববিদ্যালয়ে চলছে শিক্ষকদের কর্মবিরতি

প্রকাশঃ আগস্ট ১৬, ২০১৫ সময়ঃ ১:৩২ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ১:৩২ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

dhaka univerঅষ্টম জাতীয় বেতন কাঠামো বাতিল এবং স্বতন্ত্র বেতন স্বেল প্রবর্তনের দাবিতে কর্মবিরতি পালন করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সর্বস্তরের শিক্ষকরা। একই দাবিতে দেশের ৩০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা কর্মবিরতি পালন করছেন।

রোববার সকাল ১০টা থেকে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের সিদ্ধান্তে শিক্ষকদের এই কর্মবিরতি শুরু হয়। দুপুর ১টা পর্যন্ত এই কর্মবিরতি চলবে। কর্মবিরতির ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো বিভাগের ক্লাস হয়নি বলে জানা গেছে। তবে সকাল ১০টার আগে বিভিন্ন বিভাগে ক্লাস হয়েছে বলে জানা গেছে।

জানা গেছে, পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত কর্মবিরতি ঘোষণা করে। ক্যাম্পাসের কলাভবনের সামনের বটতলায় মুক্তমঞ্চ গঠন করে অবস্থান কর্মসূচি করারও সিদ্ধান্ত থাকে। কিন্তু সকালে বৃষ্টি হওয়ায় বটতলার পরিবর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ক্লাবে এই কর্মসূচি শুরু হয়। এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত শিক্ষকরা কর্মবিরতি ঘোষণা করে শিক্ষক ক্লাবে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন।

ঢাবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল বলেন, পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী আমরা এই কর্মসূচি পালন করছি। আমাদের দাবি মানা না পর্যন্ত এই কর্মসূচি চলবে। ঢাবি প্রক্টর অধ্যাপক ড. এম আমজাদ আলী জানান, শিক্ষকদের শান্তিপূর্ণ কর্মবিরতির আন্দোলন চলছে। সকাল ১০টার পরে কোনো বিভাগে ক্লাস হচ্ছে না বলেও তিনি জানান।

প্রসঙ্গত, গত ১১ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ক্লাব মিলনায়তনে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের সাধারণ সভায় এই কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়। এসময় সভায় ফেডারেশনভুক্ত ৩০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সভায় ১৬ আগস্ট থেকে ২০ আগস্ট পর্যন্ত স্ব স্ব বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে মুক্তমঞ্চ স্থাপন করে উল্লিখিত দাবির পক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের স্বাক্ষর সংগ্রহ অভিযান শুরু করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সংগৃহীত স্বাক্ষর ২০ আগস্ট ফেডারেশনের মহাসচিব বরাবরে জমা দেয়ার এবং পরবর্তীতে তা সরকারের উচ্চমহলে উপস্থাপন করার সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

চলতি মাসের পরবর্তী প্রতি রোববার অর্থাৎ ২৩ ও ৩১ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ৩ ঘণ্টা ফেডারেশনভুক্ত সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের কর্মবিরতি পালন করার ঘোষণা দেওয়া হয়।

এ ছাড়া সভায় শিক্ষকদের যৌক্তিক দাবি উপেক্ষা করে অষ্টম জাতীয় বেতন কাঠামো ঘোষণা করা হলে তাৎক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জাতীয় সম্মেলন ডেকে লাগাতার কর্মবিরতিসহ কঠোর আন্দোলন কর্মসূচির হুমকি দেওয়া হয়। এ ছাড়া সভায় ৪ দফা দাবি উত্থাপিত হয়। দাবিগুলো হল অবিলম্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র বেতন স্কেল প্রবর্তন করে একটি বেতন কমিশন গঠন করতে হবে।

শিক্ষকদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের মধ্যবর্তী সময়ে ঘোষিত বেতন কাঠামো পুননির্ধারণ করে সকল বৈষম্য দূরীকরণপূর্বক সিলেকশন গ্রেড অধ্যাপকদের বেতন-ভাতা সিনিয়র সচিবের সমতুল্য করা, যদি অষ্টম বেতন কাঠামোতে প্রস্তাবিত পদটি (সিনিয়র সচিব) রাখা হয়; অধ্যাপকদের বেতন-ভাতা পদায়িত সচিবের সমতুল্য করা; সহযোগী অধ্যাপক, সহকারী অধ্যাপক ও প্রভাষকদের বেতন কাঠামো ক্রমানুসারে নির্ধারণ করাসহ শিক্ষকদের যৌক্তিক বেতন স্কেল নিশ্চিত করতে হবে।

রাষ্ট্রীয় ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স-এ আমাদের প্রত্যাশিত বেতন কাঠামো অনুযায়ী পদমর্যাদাগত অবস্থান নিশ্চিত করতে হবে। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সরকারি কর্মকর্তাদের অনুরূপ গাড়ি ও অন্যান্য সুবিধা শিক্ষকদের ক্ষেত্রেও নিশ্চিত করতে হবে।

প্রতিক্ষণ/এডি/এমএস

আরো সংবাদঃ

আর্কাইভ

October 2026
SSMTWTF
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31 
20G