কামারুজ্জামানের ফাঁসি কার্যকর

প্রকাশঃ এপ্রিল ১১, ২০১৫ সময়ঃ ১০:১৭ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ২:৪৪ অপরাহ্ণ

নূর মোহাম্মদ

সকল জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে শনিবার রাত ১০টার একটু পরে ফাঁসিতে ঝুলানো হল জামায়াত নেতা কামারুজ্জামানকে।

লাশ কড়া নিরাপত্তায় এ্যাম্বুলেন্স যোগে কামারুজ্জামানের গ্রামের বাড়ী শেরপুরে পাঠানোর জন্য প্রস্তুতি নেয়া হয়।

রায় কার্যকর করাকে কেন্দ্র করে কারাফটকসহ রাজধানীজুড়ে বিপুল সংখ্যক আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছিল। কারাগারের সামনের রাস্তার পাশের দোকান-পাঠ বন্ধ করে দেওয়া হয়।

বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করার পাশাপাশি মোতায়েন ছিল সাদা পোশাকে নিরাপত্তা কর্মীরা।

গত ৬ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রিভিউ পিটিশন খারিজ করে দেওয়া হয়। এরপর তার মৃত্যুদন্ড রোধে একটাই পথ ছিলো রাষ্ট্রপতির ক্ষমা।

শুক্রবার প্রাণভিক্ষার সিদ্ধান্ত জানতে চাওয়া হলে দু’জন ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে কারা কর্তৃপক্ষ  নিশ্চিত হয়, কামারুজ্জামান ক্ষমা চাইছেন না।

এরপর কারাগারে পৌঁছে ফাঁসি কার্যকর করার সরকারের নির্বাহী আদেশ। সে আদেশও তাকে পড়ে শোনানো হয়। তার পরই শুরু হয় রায় কার্যকরের প্রস্তুতি।

এর বিকেল চারটার পরপরই পরিবারের ২৪ সদস্য কেন্দ্রীয় কারাগারে গিয়ে দেখা করেন কামারুজ্জামানের সঙ্গে।  পরিবারের সদস্যরা শেষ দেখা করার পর শুরু হয় ফাঁসি কার্যকরের প্রস্তুতি।

ফাঁসির প্রস্তুতির জন্য শনিবার সন্ধ্যার পর প্রধান ফটক দিয়ে কারাগারে প্রবেশ করেন আইজি প্রিজন ইফতেখার উদ্দিন, এডিশনাল আইজি প্রিজন কবির হোসেন ও ডিআইজি প্রিজন গোলাম হায়দার। জ্যেষ্ঠ কারা তত্ত্বাবধায়ক ফরমান আলী আগে থেকেই কারাগারে ছিলেন।

উল্লেখ্য একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গত বছরের জুন মাসে কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল। ২০১০ সালের ২৯শে জুলাই তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

একাত্তরে হত্যা, গণহত্যা, নির্যাতন, দেশত্যাগে বাধ্য করাসহ মানবতাবিরোধী ৭ টি অভিযোগের ভিত্তিতে তার বিচারপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

মুক্তিযুদ্ধের সময় শেরপুর জেলার সোহাগপুর গ্রামে ১৬৪ জনকে হত্যা ও নারী নির্যাতনের দায়ে ২০১৩ সালের ৯ মে কামারুজ্জামানকে মৃত্যুদন্ড দেন ট্রাইব্যুনাল-২।

এ রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করা হলে কামারুজ্জামানের ফাঁসির আদেশ বহাল রাখেন আপিল বিভাগ।

গত ১৮ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগের রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হলে গত ৫ মার্চ তা পুনর্বিবেচনার আবেদন করেন কামারুজ্জামান। ৬ এপ্রিল এ আবেদনও খারিজ করে দেন আপিল বিভাগ।

মুহাম্মদ কামারুজ্জামান ১৯৫২ সালের ৪ঠা জুলাই বাজিতখালি গ্রামে এক কৃষকের পরিবারে জন্ম নেন। বেড়ে উঠেন শেরপুরেই। গোবিন্দপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে তিনি ম্যাট্রিক পাশ করেন। ইন্টারমিডিয়েট পাশ করেন ময়মনসিংহ নাসিরাবাদ কলেজে।

ইসলামী ছাত্র সংঘ নাম পরিবর্তন করে ছাত্রশিবির হয় ১৯৭৭ সালে। কামারুজ্জামান তখন তার সাধারণ সম্পাদক ও পরে ছাত্রশিবিরের সভাপতি হন।

এরপর জামায়াতের প্রথম সারির একজন নেতা হিসেবে আবির্ভূত হন। সর্বশেষ দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল পদে দায়িত্ব পালন করেন। রাজনীতির পাশাপাশি সাংবাদিকতার সাথেও সম্পৃক্ত ছিলেন তিনি।

প্রতিক্ষণ/এডি/তপু

আরো সংবাদঃ

আর্কাইভ

October 2026
SSMTWTF
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31 
20G