হামলার পরিকল্পনা করছিল জেএমবি

প্রকাশঃ নভেম্বর ১০, ২০১৫ সময়ঃ ৩:৫২ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ৩:৫২ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

jmbগুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছিল ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের হাতে গ্রেফতারকৃত জেএমবির ১১ সদস্য। সাংগঠনিক কার্যক্রম চালানো ও নিজেরা আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা যেখানে অর্থ মজুদ রাখা হয়েছে সেখানেই তারা এই হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল।

মঙ্গলবার দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, জঙ্গিবাদে বিশ্বাসী উগ্রপন্থি বিকৃত ব্যাখ্যাদানকারী ব্যক্তিরা নাশকতার পরিকল্পনা করছিল, এমন গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার রাতে রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানাধীন আব্দুল্লাপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ জিহাদি বই, বিস্ফোরক দ্রব্য ও অস্ত্রসহ নিষিদ্ধ ঘোষিত জেএমবির ১১ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়।

আটককৃত জেএমবি সদস্যরা হলেন- আরিফ ইবনে খায়ের ওরফে রিফাত, মো. বাবু মুন্সি ওরফে মাসুদ রানা, খোরশেদ আলম, ওমর ফারুক, আলহাজ মিয়া, হেলাল উদ্দিন, আব্দুল বাছেদ, মো. সুজাত, আজাহার আলী, ফরহাদ হোসেন ও মিজানুর রহমান।

আটকের সময় তাদের কাছ থেকে আড়াই কেজি বিস্ফোরক দ্রব্য, তিনটি চাপাতি, একটি তালা কাটা মেশিন, ছুরি, হাসুয়াসহ বিভিন্ন প্রকার দেশীয় অস্ত্র এবং সাতটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

যুগ্ম কমিশনার বলেন, এর আগে আশুলিয়ায় অপসনিন ওষুধ কোম্পানিতে একটি ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় ৬০ ভরি সোনা, ল্যাপটপ, নগদ টাকা ও অন্যান্য সরঞ্জামাদিসহ মালামাল খোয়া যায়। এ কাজটিও তারাই করেছিল বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জানিয়েছে।

তারা জানিয়েছে, জেএমবিতে আসার পর অনেকেই আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হয়েছে। এ লোভ দেখিয়ে তারা আরো নতুন সদস্য সংগ্রহ করার কাজ করছিল।

মনিরুল ইসলাম বলেন, জেএমবি ২০০৪/০৫ সালে যে ধরনের তৎপরতা শুরু করেছিল, সে ধরনের ক্ষমতা এখন তাদের নেই।

তিনি বলেন, বৈশ্বিকভাবে জঙ্গি সংগঠনগুলো সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে। একে অপরকে অনুকরণ করার চেষ্টা করছে। বাংলাদেশেও গত দুই/এক বছর ধরে জেএমবি সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে গোয়েন্দা পুলিশের তৎপরতা ও নজরদারির কারণে দুই/একটি ঘটনা ছাড়া বড় কোনো ঘটনা ঘটাতে পারেনি। তাদের সিরিজ হামলা চালানোর কোনো ক্ষমতা এখন নেই।

মনিরুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের মানুষ ধর্মভীরু, ধর্মপ্রাণ। তবে ধর্মান্ধ নয়। সে কারণে দেশের মানুষ জঙ্গিবাদ, উগ্রবাদকে ঘৃণা করে। জনগণের সহযোগিতায় তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হলো ব্যাপক অর্থায়নে নিজেদের নেতা-কর্মী বৃদ্ধি করা। এরপর তারা রাষ্ট্রীয় বড় পদস্থ কাউকে হত্যার পরিকল্পনা করতে পারে বলে আমরা ইনটেলিজেন্স এর মাধ্যমে জেনেছি। তবে আমরা এও জেনেছি বর্তমানে তাদের সে ধরনের কোনো সক্ষমতা নেই।’

প্রতিক্ষণ/এডি/এআরকে

আরো সংবাদঃ

মন্তব্য করুনঃ

পাঠকের মন্তব্য



আর্কাইভ

May 2026
SSMTWTF
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031 
20G