বয়স ৪৫ পেরোলেই ঝুঁকি, হাড় শক্ত ও ভালো হজমে দরকার এই ৩ খাবার
৪৫-এর কাছাকাছি বয়সে নারীদের শরীরে ধীরে ধীরে কিছু স্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিতে শুরু করে। এই সময়টাকে বলা হয় পেরিমেনোপজ, যা মূলত রজোনিবৃত্তির আগের ধাপ। এ সময়ে শরীরে হরমোনের ওঠানামা হয় এবং বিশেষ করে ইস্ট্রোজেনের মাত্রা কমতে থাকে।
এর প্রভাব সরাসরি পড়ে হাড়ের উপর। ধীরে ধীরে হাড়ের ঘনত্ব কমে যায়, ফলে দুর্বলতা তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে বিপাক হার কমে যাওয়ায় অনেকের হজমে সমস্যা, গ্যাস বা অস্বস্তি দেখা দেয়। শুধু শারীরিক নয়, হরমোনের এই পরিবর্তন মানসিক অবস্থাতেও প্রভাব ফেলে—মেজাজ খিটখিটে হয়ে উঠতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সময়টায় সঠিক খাবার নির্বাচন খুব গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় কিছু পুষ্টিকর খাবার যোগ করলে শরীরের শক্তি বজায় থাকে, পাশাপাশি হজম ও হাড়ের স্বাস্থ্যও ভালো থাকে।
১. খেজুর ও ঘি
খেজুর একটি শক্তিদায়ক ও পুষ্টিকর খাবার। এতে রয়েছে ফাইবার, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়ামসহ বিভিন্ন খনিজ ও প্রাকৃতিক শর্করা, যা শরীরকে দ্রুত শক্তি জোগায় এবং হজমে সহায়তা করে। খেজুরে থাকা ফাইটোইস্ট্রোজেন শরীরে ইস্ট্রোজেনের মতো ভূমিকা রাখতে পারে, যা এই সময়ে উপকারী।
ঘি শরীরকে দেয় স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, যা ভিটামিন এ, ডি, ই এবং কে শোষণে সাহায্য করে। নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে ঘি খেলে শরীরের সামগ্রিক পুষ্টির ভারসাম্য বজায় থাকে।
২. জিরা ও মৌরির পানি
মৌরি ভেজানো পানি বহুদিন ধরেই হজম ভালো রাখার একটি প্রাকৃতিক উপায় হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এটি শরীরের অপ্রয়োজনীয় উপাদান বের করে দিতে সাহায্য করে এবং পেট ঠান্ডা রাখে। মৌরির অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল গুণ পেটের সংক্রমণ কমাতেও কার্যকর।
অন্যদিকে জিরা হজমশক্তি বাড়াতে পরিচিত। সকালে খালি পেটে জিরা ও মৌরি ভেজানো পানি পান করলে গ্যাস, বদহজম ও পেটের অস্বস্তি অনেকটাই কমতে পারে।
৩. সাদা তিল
সাদা তিল ক্যালশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও ফসফরাসে সমৃদ্ধ, যা হাড় মজবুত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এতে থাকা স্বাস্থ্যকর ফ্যাট হৃদ্যন্ত্রের জন্যও উপকারী। নিয়মিত তিল খেলে বয়সজনিত হাড় ক্ষয় বা অস্টিওপোরোসিসের ঝুঁকি কিছুটা কমানো সম্ভব।
এছাড়া তিলে রয়েছে সেসামিন ও সেসামোলিন নামের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা শরীরের অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে। তিল হালকা ভেজে সালাদ, স্মুদি কিংবা বিভিন্ন রান্নায় ব্যবহার করা যায়।
প্রতি / এডি / শাআ













