পোশাক বদলে ৭৬ কোটি ব্যয়, তবুও নতুন ইউনিফর্ম চায় পুলিশ

প্রকাশঃ এপ্রিল ১১, ২০২৬ সময়ঃ ৭:২৩ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ৭:২৩ অপরাহ্ণ

দেশে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংস্কার নিয়ে আলোচনা শুরু হলে পুলিশের পোশাক পরিবর্তনের বিষয়টিও সামনে আসে। ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি এ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে কয়েক মাস না যেতেই সেই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি উঠেছে।

বাংলাদেশ পুলিশ এখন আবার নতুন ইউনিফর্ম চাচ্ছে। গত এক সপ্তাহে দুই দফা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গিয়ে বাহিনীর পক্ষ থেকে পাঁচ ধরনের রঙের প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়েছে। এসব বিকল্প থেকে একটি চূড়ান্ত করতে সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।

অন্যদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টি নিয়ে তাড়াহুড়ো করতে রাজি নয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, ইউনিফর্ম বারবার পরিবর্তন করা সম্ভব নয়, কারণ এতে বড় ধরনের ব্যয় জড়িত।

জানা গেছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে পুলিশের নতুন পোশাক তৈরির জন্য প্রায় ৭৬ কোটি টাকার কাজ দেওয়া হয়েছিল দুটি প্রতিষ্ঠানের কাছে। এর মধ্যে নোমান গ্রুপ পায় ৫১ কোটি টাকার কাজ এবং প্যারামাউন্ট গ্রুপ পায় ২৫ কোটি টাকার কাজ। ইতোমধ্যে কিছু ইউনিটে নতুন পোশাক সরবরাহও করা হয়েছে।

তবে মাঠপর্যায়ের অনেক পুলিশ সদস্য নতুন ইউনিফর্ম নিয়ে সন্তুষ্ট নন। তাদের মতে, নির্ধারিত রঙটি আকর্ষণীয় নয় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে সমালোচনা হওয়ায় তারা অস্বস্তিতে পড়ছেন।

পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সর্বশেষ ২০০৪ সালে পুলিশের পোশাকে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছিল। প্রায় দুই দশক পর ২০২৫ সালে নতুন করে ইউনিফর্ম চালু করা হলেও সেটি নিয়ে শুরু থেকেই মিশ্র প্রতিক্রিয়া ছিল।

সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঁচজন কনস্টেবল পাঁচ ধরনের ইউনিফর্ম পরে হাজির হন। তারা খাকি-নেভি ব্লু, সম্পূর্ণ খাকি, আগের নেভি ব্লু, নতুন আয়রন রঙ এবং আকাশি-নেভি ব্লু—এই পাঁচটি বিকল্প প্রদর্শন করেন।

এদিকে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনও ইউনিফর্ম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে। সংগঠনটির দাবি, সদস্যদের মতামত ও দেশের আবহাওয়ার বিষয়টি যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি। ফলে নতুন পোশাক নিয়ে মাঠপর্যায়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদও সম্প্রতি জানিয়েছেন, বর্তমান পোশাক নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে। তাই ঐতিহ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন একটি সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে।

এদিকে নতুন পোশাক চালুর পর আবার পরিবর্তন আনলে অর্থ অপচয়ের আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। তাদের মতে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ব্যয় ও প্রয়োজনীয়তা দুটিই গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা উচিত।

বর্তমানে যে কাপড় সরবরাহ করা হয়েছে, তা পুরোপুরি বাতিল না করে রঙ পরিবর্তনের মাধ্যমে ব্যবহার করার চিন্তাও করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

সব মিলিয়ে, পুলিশের ইউনিফর্ম পরিবর্তনের বিষয়টি এখন শুধু বাহিনীর পছন্দ-অপছন্দের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এর সঙ্গে জড়িয়ে গেছে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় ও নীতিগত সিদ্ধান্তের প্রশ্নও।

প্রতি / এডি / শাআ

আরো সংবাদঃ

মন্তব্য করুনঃ

পাঠকের মন্তব্য



আর্কাইভ

20G