দই ছাড়াও পেট সুস্থ রাখা সম্ভব: মেনে চলুন এই ৫টি অভ্যাস

প্রথম প্রকাশঃ মে ৯, ২০২৬ সময়ঃ ৯:৩৭ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ৯:৩৭ অপরাহ্ণ

দৈনন্দিন খাবার গ্রহণের কিছু ভুল অভ্যাসই অনেক সময় পেটের নানা সমস্যার মূল কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই পেটের সমস্যা সমাধানের আগে যদি এসব অভ্যাস পরিবর্তন করা যায়, তাহলে ফল অনেক বেশি ভালো পাওয়া সম্ভব।

পেটের সুস্থতা নিয়ে নানা ধরনের পরামর্শ আমরা প্রায়ই দেখে থাকি। কেউ দই খেতে বলেন, কেউ মশলা ভেজানো পানি পান করার পরামর্শ দেন, আবার কেউ পানি বেশি খেতে বলেন। এসবই কিছু না কিছু উপকার দেয় ঠিকই, তবে মূল সমস্যা থেকে যায় অভ্যাসে। যদি খাওয়াদাওয়ার ভুল রুটিন বজায় থাকে, তাহলে কোনো উপায়ই পুরোপুরি কাজ করে না।

খাওয়ার সময় ঠিক রাখা জরুরি

পেট ও হজমতন্ত্র একটি নির্দিষ্ট ছন্দে কাজ করে। শরীরের একটি নিজস্ব জৈব ঘড়ি রয়েছে, যা হজমের প্রক্রিয়াও নিয়ন্ত্রণ করে।

সকাল থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত সময়কে হজমশক্তির সবচেয়ে কার্যকর সময় ধরা হয়। এ সময় ভারী খাবার খাওয়া তুলনামূলকভাবে সহজে হজম হয়। কিন্তু যদি দুপুরের খাবার দেরিতে, যেমন ২টা বা ৩টায় খাওয়া হয়, তাহলে হজমে সময় বেশি লাগে। এর ফলে পরবর্তী খাবারের সঙ্গে মিশে গিয়ে পেটে ভারীভাব, গ্যাস বা অস্বস্তি তৈরি হতে পারে।

বিকেলের পর ও রাতের খাবারের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকা দরকার। অনেকেই রাত ১০টার দিকে খাবার খেয়ে সঙ্গে সঙ্গেই শুয়ে পড়েন। এতে হজম প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায় এবং খাবার ঠিকভাবে ভাঙতে পারে না। ফলে গ্যাস, পেট ফাঁপা এবং অস্বস্তি দেখা দেয়।

খাবার ভালোভাবে চিবিয়ে খাওয়া

হজম শুরু হয় মুখ থেকেই। দ্রুত খাওয়া বা ঠিকমতো না চিবিয়ে খেলে হজমে সমস্যা হয়। প্রতিটি গ্রাস ভালোভাবে চিবিয়ে খেলে খাবার সহজে ভাঙে এবং অন্ত্রের উপর চাপ কমে।

এছাড়া দ্রুত খাওয়ার সময় অনেক সময় অতিরিক্ত বাতাস পেটে ঢুকে যায়, যা পেট ফাঁপার কারণ হতে পারে।

রাতে কাঁচা খাবার কমানো ভালো

রাতে কাঁচা সালাদ বা সবজি খাওয়ার অভ্যাস অনেকেরই আছে। তবে কাঁচা খাবারে থাকা ফাইবার রাতে হজম করা তুলনামূলক কঠিন হতে পারে। বিশেষ করে যাদের গ্যাস বা পেট ফাঁপার সমস্যা আছে, তাদের জন্য রাতে হালকা সেদ্ধ বা রান্না করা খাবার ভালো।

খাওয়ার পরের অভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ

খাওয়ার পর দীর্ঘ সময় বসে থাকা বা শুয়ে পড়া পেটের জন্য ভালো নয়। খাবার খাওয়ার পরে অন্তত ১০ মিনিট হালকা হাঁটাহাঁটি করলে হজম প্রক্রিয়া ভালোভাবে কাজ করে। এতে গ্যাস ও অ্যাসিডিটির সমস্যা কমে এবং রক্তে শর্করার মাত্রাও নিয়ন্ত্রণে থাকে।

পানি খাওয়ার সঠিক নিয়ম

খাওয়ার সময় বা খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে খুব ঠান্ডা পানি পান করা ঠিক নয়। এতে হজমে সহায়তাকারী এনজাইমের কার্যকারিতা কিছুটা কমে যেতে পারে।

সবচেয়ে ভালো হয় যদি শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রার কাছাকাছি পানি পান করা হয়। এতে হজম প্রক্রিয়া স্বাভাবিকভাবে চলতে সাহায্য করে।

প্রতি / এডি / শাআ

আরো সংবাদঃ

মন্তব্য করুনঃ

পাঠকের মন্তব্য

সর্বাধিক পঠিত

20G