ব্যস্ত জীবনে অনেকেই ছোটখাটো কথোপকথনকে তেমন গুরুত্ব দেন না। লিফটে দাঁড়িয়ে আবহাওয়া নিয়ে দু’একটা কথা, অফিসে সহকর্মীর সঙ্গে হালকা আড্ডা কিংবা অপেক্ষার সময় পাশের মানুষের সঙ্গে সাধারণ আলোচনা অনেকের কাছেই সময় নষ্ট মনে হয়। তবে সাম্প্রতিক এক গবেষণা বলছে, এই ধরনের সাধারণ আলাপচারিতাই মানুষের মানসিক স্বস্তি ও সামাজিক সংযোগ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষ যেসব বিষয়কে আগে থেকেই একঘেয়ে বা বিরক্তিকর মনে করে, সেসব নিয়েও কথা বলার পর তারা প্রত্যাশার তুলনায় বেশি আনন্দ অনুভব করেছে। গবেষকদের মতে, আলাপের বিষয় নয়, বরং মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করাটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
গবেষণাটিতে প্রায় ১ হাজার ৮০০ জন অংশ নেন। অংশগ্রহণকারীদের এমন কিছু বিষয় নিয়ে কথা বলতে বলা হয়, যেগুলোকে তারা আগে খুব সাধারণ বা নিরস মনে করতেন। এর মধ্যে ছিল গণিত, দৈনন্দিন কাজ, শেয়ারবাজার, পেঁয়াজ, ইতিহাস কিংবা পোষা প্রাণী সম্পর্কিত আলোচনা। শুরুতে অনেকেই ভেবেছিলেন, কথোপকথনগুলো বিরক্তিকর হবে। কিন্তু আলাপ শেষে অধিকাংশ অংশগ্রহণকারী জানান, অভিজ্ঞতাটি তাদের ধারণার চেয়ে অনেক বেশি উপভোগ্য ছিল।
গবেষকদের ভাষ্য, আন্তরিকভাবে কারও কথা শোনা, মনোযোগ দেওয়া এবং সংযোগ তৈরি করার চেষ্টা মানুষের মনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। খুব সাধারণ বিষয় নিয়েও কথা বলা হলে সেটি এক ধরনের সামাজিক বন্ধন তৈরি করে, যা মানসিকভাবে স্বস্তি দিতে সাহায্য করে।
মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, মানুষ স্বভাবগতভাবেই সামাজিক জীব। তাই ছোট ছোট আলাপও একাকিত্বের অনুভূতি কমাতে কার্যকর হতে পারে। একাকিত্ব শুধু একা থাকা নয়, বরং নিজেকে বিচ্ছিন্ন মনে করার অনুভূতি। আর নিয়মিত সামাজিক যোগাযোগ সেই দূরত্ব কমাতে সহায়তা করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন একাকিত্বে থাকলে মানসিক চাপ, উদ্বেগ ও বিষণ্নতার ঝুঁকি বাড়তে পারে। পাশাপাশি হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ও স্মৃতিজনিত সমস্যার সঙ্গেও একাকিত্বের সম্পর্ক রয়েছে বলে বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে।
তবে সব ধরনের যোগাযোগ যে উপকারী হবে, তা নয়। ইতিবাচক সামাজিক সম্পর্কের জন্য প্রয়োজন পারস্পরিক সম্মান, আন্তরিকতা এবং নিরাপদ পরিবেশ। নেতিবাচক বা অসম্মানজনক আচরণ মানসিক চাপ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
ডিজিটাল যোগাযোগের যুগে আমরা অনেক সময় সামনাসামনি ছোটখাটো আলাপ এড়িয়ে চলি। অথচ হয়তো সেই সাধারণ কথোপকথনের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে কিছুটা মানসিক স্বস্তি, নতুন সম্পর্ক কিংবা ভালো লাগার অনুভূতি।
তাই অফিস, বাসা বা চলার পথে কেউ হাসিমুখে কথা বলতে চাইলে সেটিকে অপ্রয়োজনীয় ভেবে এড়িয়ে না গিয়ে কিছু সময় নিয়ে উত্তর দেওয়া যেতে পারে। ছোট্ট সেই আলাপই হয়তো দিনের ক্লান্তি কিছুটা কমিয়ে দিতে পারে।
প্রতি / এডি / শাআ