বিশ্বজুড়ে বাড়ছে নতুন ধরনের ফ্লুর সংক্রমণ, কীভাবে নিরাপদ থাকবেন?

প্রকাশঃ মে ২১, ২০২৬ সময়ঃ ১১:৫৩ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ১১:৫৩ অপরাহ্ণ

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দ্রুত বাড়ছে মৌসুমি ফ্লুর সংক্রমণ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভাইরাসের নতুন একটি পরিবর্তিত ধরন বা মিউটেশন এর পেছনে ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে জাপান ও যুক্তরাজ্যে সংক্রমণ বাড়ার পর এখন এই ধরনটি বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে শনাক্ত হয়েছে।

গবেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অনেক মানুষের শরীর এই ধরনের ভাইরাসের সংস্পর্শে কম এসেছে। ফলে স্বাভাবিক রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতিও আগের তুলনায় দুর্বল হয়ে পড়েছে, যা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

কী এই নতুন এইচ-থ্রি-এন-টু মিউটেশন?

ফ্লু ভাইরাস নিয়মিতই পরিবর্তিত হয়। বিজ্ঞানীরা প্রতি বছর এসব পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করে টিকা হালনাগাদ করার চেষ্টা করেন। বেশিরভাগ সময় ভাইরাসে ছোটখাটো পরিবর্তন দেখা গেলেও, কখনো কখনো বড় ধরনের রূপান্তরও ঘটে।

সম্প্রতি এইচ-থ্রি-এন-টু মৌসুমি ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের একটি নতুন উপধরনে একাধিক মিউটেশন শনাক্ত হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, এই পরিবর্তনের কারণে ভাইরাসটি আগের তুলনায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।

গবেষকদের ধারণা, এই নতুন ভ্যারিয়েন্ট বিশ্বব্যাপী আরও বিস্তৃত হতে পারে।

এই ফ্লু কতটা ঝুঁকিপূর্ণ?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন এই ফ্লুর উপসর্গ অন্যান্য মৌসুমি ফ্লুর মতোই হতে পারে। তবে যেহেতু মানুষের শরীরে এর বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত প্রতিরোধ ক্ষমতা নেই, তাই সহজেই সংক্রমণ ছড়াতে পারে।

ফ্লুতে কারও ক্ষেত্রে কোনো উপসর্গ নাও দেখা দিতে পারে, আবার কারও হঠাৎ জ্বর, শরীর ব্যথা, দুর্বলতা বা অতিরিক্ত ক্লান্তি হতে পারে। বয়স্ক ব্যক্তি, গর্ভবতী নারী এবং দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতায় ভোগা মানুষদের জন্য ঝুঁকি বেশি।

সর্দি, ফ্লু ও কোভিডের পার্থক্য কী?

সাধারণ সর্দি সাধারণত ধীরে শুরু হয় এবং নাক ও গলাকে বেশি প্রভাবিত করে।

ফ্লুর ক্ষেত্রে হঠাৎ জ্বর, শরীর ব্যথা, দুর্বলতা ও কাঁপুনি দেখা যায়।

অন্যদিকে কোভিডের লক্ষণ ফ্লুর মতো হলেও স্বাদ বা গন্ধ হারানো, তীব্র গলা ব্যথা কিংবা ডায়রিয়ার মতো উপসর্গ আলাদা করে বোঝাতে সাহায্য করতে পারে।

কীভাবে নিজেকে সুরক্ষিত রাখবেন?

বিশেষজ্ঞদের মতে, ফ্লু প্রতিরোধে সবচেয়ে কার্যকর উপায়গুলোর একটি হলো টিকা নেওয়া। যদিও বর্তমান ভ্যাকসিন নতুন মিউটেশনের সঙ্গে পুরোপুরি মিল নাও রাখতে পারে, তবুও এটি গুরুতর অসুস্থতার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।

এছাড়া কিছু সাধারণ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে সংক্রমণ কমানো সম্ভব। যেমন:

  • কাশি বা হাঁচির সময় টিস্যু বা কনুই দিয়ে মুখ ঢেকে রাখা
  • নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধোয়া
  • অসুস্থ হলে বাড়িতে বিশ্রামে থাকা
  • ভিড় এড়িয়ে চলা
  • প্রয়োজন হলে মাস্ক ব্যবহার করা
  • পর্যাপ্ত পানি পান ও বিশ্রাম নেওয়া

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই, তবে সতর্ক থাকা জরুরি। নিয়মিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং অসুস্থ হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।

প্রতি / এডি / শাআ

আরো সংবাদঃ

আর্কাইভ

September 2026
SSMTWTF
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930 
20G