সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করলেই আরবের যেসব দেশে হতে পারে জেল
ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ঘিরে সাম্প্রতিক আঞ্চলিক উত্তেজনার পর মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি উপসাগরীয় দেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা নিয়ে কঠোর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে। বিভিন্ন দেশে শতাধিক ব্যক্তিকে আটক, বিচার কিংবা বহিষ্কারের মুখোমুখি হতে হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
কর্তৃপক্ষের দাবি, এসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে জাতীয় নিরাপত্তা ক্ষতিগ্রস্ত করা, ভুয়া তথ্য ছড়ানো, সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি এবং বিদেশি পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের মতো অভিযোগ রয়েছে। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, অনেক ক্ষেত্রেই মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে সীমিত করা হচ্ছে।
সামাজিক মাধ্যম নজরদারিতে কড়াকড়ি
সংঘাত শুরু হওয়ার পর বেশ কয়েকটি উপসাগরীয় দেশ অনলাইন কনটেন্ট নিয়ে নতুন নির্দেশনা জারি করে। কোথাও কোথাও জাতীয় নিরাপত্তা আইনের প্রয়োগ আরও কঠোর করা হয়েছে। একইসঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর নজরদারিও বেড়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
মানবাধিকারকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, কিছু স্থানে চেকপোস্টে মোবাইল ফোন তল্লাশি করে বার্তা, ছবি ও ভয়েস নোটও পরীক্ষা করা হচ্ছে। সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট, মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়াও নজরদারির আওতায় এসেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
কুয়েতে সামাজিক মাধ্যম মামলায় সাজা
কুয়েতে সামাজিক মাধ্যম সংশ্লিষ্ট মামলায় বহু ব্যক্তিকে আটক ও তদন্তের পর আদালতে তোলা হয়। আদালত কয়েকজনকে কারাদণ্ড দেয় এবং অনেককে নির্দিষ্ট পোস্ট মুছে ফেলার নির্দেশ দেয়। কিছু ব্যক্তি অবশ্য খালাসও পেয়েছেন।
আটকদের মধ্যে সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী, অনলাইন ইনফ্লুয়েন্সার এবং সাধারণ নাগরিকও ছিলেন। অভিযোগগুলোর মধ্যে ছিল ভুয়া তথ্য ছড়ানো, জাতীয় নিরাপত্তা দুর্বল করা এবং সামাজিক মাধ্যমে উত্তেজনা তৈরির মতো বিষয়।
নতুন আইনি ব্যবস্থার আওতায় দেশটিতে সেনাবাহিনী বা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আস্থা নষ্ট করতে পারে এমন কনটেন্ট প্রকাশের জন্যও কঠোর শাস্তির বিধান আনা হয়েছে। পাশাপাশি বিশেষ নিরাপত্তা আদালত গঠনের ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে।
নাগরিকত্ব বাতিলের আশঙ্কা
কুয়েত ও বাহরাইনে নতুন আইন ও ডিক্রির কারণে আটক ব্যক্তিদের পরিবারগুলোর মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। অনেকের আশঙ্কা, দোষী সাব্যস্ত হলে নাগরিকত্ব বাতিলের মতো পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
কুয়েতের নতুন নাগরিকত্ব আইনে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ক্ষতি করে এমন কর্মকাণ্ডে জড়িতদের নাগরিকত্ব প্রত্যাহারের সুযোগ রাখা হয়েছে।
বাহরাইনে ৬৯ জনের নাগরিকত্ব বাতিল
বাহরাইন সরকার সম্প্রতি ৬৯ জনের নাগরিকত্ব বাতিল করেছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, বিদেশি পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ ও ইরান-সমর্থিত কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সরকারের দাবি, এটি জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার অংশ। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, এসব সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর উদ্বেগ
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ বিভিন্ন সংস্থা বলছে, উপসাগরীয় অঞ্চলে সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকে কেন্দ্র করে দমনমূলক পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। তাদের মতে, অনলাইনে মতামত প্রকাশ, যুদ্ধবিরোধী অবস্থান বা ভিডিও শেয়ার করার কারণেও মানুষ আইনি ঝুঁকিতে পড়ছেন।
অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সরকার বলছে, এসব পদক্ষেপ কেবল অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ও নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলার জন্য নেওয়া হচ্ছে।
প্রতি / এডি / শাআ













