ঋণ থাকলে কোরবানি দেওয়া যাবে কি? ইসলামের বিধান কী বলে
পবিত্র ঈদুল আজহা মুসলিম উম্মাহর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব। প্রতি বছর এই উৎসবকে ঘিরে সামর্থ্যবান মুসলমানরা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি করে থাকেন। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ঈদুল আজহার দিন থেকে শুরু করে পরবর্তী তিন দিন পর্যন্ত কোরবানির কার্যক্রম চলে।
কেউ এককভাবে গরু, ছাগল বা ভেড়া কোরবানি দেন, আবার অনেকে শরিকানাভিত্তিকভাবে গরু, মহিষ কিংবা উটে অংশ নেন। সমাজের বিত্তবানদের মধ্যে একাধিক পশু কোরবানি দেওয়ার প্রবণতাও দেখা যায়। তবে প্রতি বছরই একটি প্রশ্ন ঘুরে ফিরে আসে, ঠিক কতটুকু সম্পদ থাকলে একজন মুসলমানের ওপর কোরবানি ওয়াজিব হয়।
ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী, যিনি প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ মস্তিষ্কের অধিকারী এবং কোরবানির দিনগুলোতে নিজের প্রয়োজনীয় খরচ বাদ দিয়ে নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক থাকেন, তার ওপর কোরবানি ওয়াজিব হয়। অর্থাৎ মৌলিক চাহিদা পূরণের পর অতিরিক্ত নির্ধারিত পরিমাণ সম্পদ থাকলে কোরবানি আদায় করতে হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক মুহাম্মদ আব্দুর রশীদ এক গণমাধ্যমকে বলেন, যেসব সম্পদের কারণে যাকাত ফরজ হয়, একই ধরনের সম্পদ থাকলে কোরবানিও ওয়াজিব হবে।
তবে অনেকের মধ্যেই প্রশ্ন থাকে, ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি বা আর্থিক সংকটে থাকা কারও ওপর কোরবানি ওয়াজিব কি না। ইসলামি গবেষকদের মতে, যদি কারও ওপর এমন ঋণ থাকে যা পরিশোধ করার পর নিসাব পরিমাণ সম্পদ অবশিষ্ট না থাকে, তাহলে তার ওপর কোরবানি ওয়াজিব হবে না।
বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, শুধুমাত্র সামাজিক চাপ বা লোকদেখানোর উদ্দেশ্যে ঋণ করে কোরবানি দেওয়া ইসলামের মূল শিক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তবে কেউ যদি ভবিষ্যতে সহজে ঋণ পরিশোধ করতে সক্ষম হন এবং আর্থিকভাবে স্থিতিশীল থাকেন, তাহলে তিনি চাইলে কোরবানি করতে পারেন।
প্রতি / এডি / শাআ













