বর্তমান ব্যস্ত জীবনে মানসিক চাপ যেন অনেকের নিত্যসঙ্গী হয়ে উঠেছে। কাজের চাপ, পারিবারিক দায়িত্ব, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অতিরিক্ত ব্যবহার এবং নানা দুশ্চিন্তার কারণে মন সবসময় ক্লান্ত ও অস্থির অনুভব করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিছু সহজ দৈনন্দিন অভ্যাস মানসিক চাপ কমিয়ে মনকে অনেকটাই শান্ত রাখতে সাহায্য করতে পারে।
দিনের শুরুতেই ফোন হাতে নিলে মস্তিষ্ক একসঙ্গে অনেক তথ্যের চাপ নেয়। এতে অস্থিরতা বাড়তে পারে। তাই সকালে অন্তত কিছু সময় মোবাইল বা অন্য স্ক্রিন এড়িয়ে নিজের জন্য সময় রাখার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। এ সময় হাঁটা, বই পড়া বা শান্তভাবে নাস্তা করা উপকারী হতে পারে।
চাপের মুহূর্তে শ্বাস-প্রশ্বাস দ্রুত হয়ে যায়। তখন কয়েক মিনিট ধীরে গভীর শ্বাস নেওয়া শরীর ও মনকে শান্ত করতে সাহায্য করতে পারে। নিয়মিত শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম উদ্বেগ কমাতে ও মনোযোগ বাড়াতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
প্রকৃতির পরিবেশ মানুষের মনকে স্বস্তি দেয়। খোলা আকাশ দেখা, গাছপালার পাশে হাঁটা কিংবা কিছু সময় রোদে বসে থাকাও মানসিক চাপ কমাতে সহায়ক হতে পারে। গবেষণায়ও প্রকৃতির ইতিবাচক প্রভাবের কথা উঠে এসেছে।
প্রতিদিন এমন কিছু বিষয় লিখে রাখা যেতে পারে, যার জন্য আপনি কৃতজ্ঞ। ছোট ছোট ভালো মুহূর্তের দিকেও মনোযোগ দিলে ইতিবাচক চিন্তা বাড়ে এবং মানসিক ভারসাম্য বজায় রাখতে সুবিধা হয়।
ছবি আঁকা, গান শোনা, হাতের কাজ বা অন্য কোনো সৃজনশীল কাজে সময় দিলে মন অনেকটাই হালকা হতে পারে। এসব কাজ মস্তিষ্ককে ব্যস্ততার চাপ থেকে কিছুটা দূরে রাখতে সাহায্য করে।
মন খারাপ বা অস্থির লাগলে নিজের পছন্দের কোনো সুর গুনগুন করে গাওয়া মানসিক স্বস্তি দিতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি স্নায়ুতন্ত্রকে কিছুটা শিথিল করতে সহায়তা করে।
মানসিক চাপের প্রভাব শরীরেও পড়ে। ঘাড়, কাঁধ বা পিঠে টান অনুভূত হতে পারে। প্রতিদিন অল্প সময় স্ট্রেচিং করলে শরীরের জড়তা কমে এবং শরীর-মন দুটোই কিছুটা আরাম পায়।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, মানসিক শান্তি একদিনে আসে না। তবে প্রতিদিনের ছোট ছোট ইতিবাচক অভ্যাস ধীরে ধীরে মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করতে পারে। ব্যস্ততার মাঝেও নিজের জন্য কিছুটা সময় বের করা মানসিক সুস্থতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
প্রতি / এডি / শাআ