গরমের দিনে অতিরিক্ত ঘাম হওয়া খুবই সাধারণ একটি বিষয়। তবে ঘামের সঙ্গে শরীরে দুর্গন্ধ তৈরি হলে তা অনেকের জন্যই অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বাইরে বের হলে কিংবা দীর্ঘ সময় কাজের মধ্যে থাকলে এই সমস্যা আরও বেশি অনুভূত হয়। অনেকেই এ সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে ডিওডোরেন্ট বা বিভিন্ন সুগন্ধি ব্যবহার করেন। কিন্তু সব ধরনের ত্বকে এসব পণ্য সমানভাবে মানিয়ে যায় না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু সুগন্ধি বা ডিওডোরেন্টে থাকা রাসায়নিক উপাদান ত্বকে জ্বালা বা অ্যালার্জির কারণ হতে পারে। এ ছাড়া অনেক সময় সুগন্ধির প্রভাবও বেশিক্ষণ থাকে না। তাই অনেকে এখন ঝুঁকছেন পুরনো ঘরোয়া উপায়ের দিকে। এর মধ্যে ফিটকিরি বেশ জনপ্রিয় একটি উপাদান।
ফিটকিরি মূলত এক ধরনের প্রাকৃতিক খনিজ লবণ। এটি দেখতে সাধারণত সাদা বা স্বচ্ছ স্ফটিকের মতো হয় এবং খুব সহজেই বাজারে পাওয়া যায়। আগে ছোটখাটো কাটাছেঁড়া, শেভ করার পর ত্বকের যত্ন কিংবা জীবাণুনাশক হিসেবে ফিটকিরির ব্যবহার ছিল বেশ পরিচিত।
ফিটকিরিতে থাকা অ্যান্টিসেপটিক ও জীবাণুরোধী উপাদান শরীরের দুর্গন্ধ কমাতে সাহায্য করতে পারে। সাধারণত ঘামের নিজস্ব তেমন গন্ধ থাকে না। ত্বকে থাকা ব্যাকটেরিয়া ঘামের সঙ্গে মিশে দুর্গন্ধ তৈরি করে। ফিটকিরি সেই ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি কমাতে সহায়তা করে, ফলে দুর্গন্ধও অনেকটা নিয়ন্ত্রণে থাকে।
সরাসরি ব্যবহার:
স্নানের পর একটি ফিটকিরির টুকরো পানিতে ভিজিয়ে বগলের ত্বকে হালকা করে ঘষে নিতে পারেন। এরপর স্বাভাবিকভাবে শুকিয়ে যেতে দিন।
গুঁড়ো ফিটকিরি ব্যবহার:
অল্প গোলাপজলের সঙ্গে গুঁড়ো ফিটকিরি মিশিয়ে তুলা দিয়ে বগলে লাগানো যেতে পারে। শুকিয়ে গেলে স্বাভাবিকভাবে পোশাক পরা যাবে।
ব্যবহারের পর ফিটকিরি পরিষ্কার করে শুকিয়ে রাখা ভালো। ভেজা অবস্থায় রেখে দিলে এটি ধীরে ধীরে গলে যেতে পারে। তাই শুকনো পাত্রে সংরক্ষণ করলে দীর্ঘদিন ব্যবহার করা সম্ভব।
গরমের সময়ে ঘামের দুর্গন্ধ কমাতে দামী প্রসাধনীর পাশাপাশি এই সহজ ঘরোয়া উপাদানও কার্যকর হতে পারে। তবে কারও ত্বকে জ্বালা বা অস্বস্তি হলে ব্যবহার বন্ধ করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
প্রতি / এডি / শাআ