ডাইনোসরের যুগে পৃথিবীতে কত প্রাণী ছিল? যা বলছে বিজ্ঞান

প্রকাশঃ জুন ১৪, ২০২৬ সময়ঃ ১১:১৯ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ১১:১৯ অপরাহ্ণ

এক মুহূর্তের জন্য কল্পনা করুন, আপনি চলে গেছেন কোটি কোটি বছর আগের পৃথিবীতে। চারপাশে মানুষের কোনো অস্তিত্ব নেই। বিশাল বনভূমি, অদ্ভুত সব উদ্ভিদ আর চোখ যতদূর যায়, ততদূর পর্যন্ত বিচরণ করছে নানা প্রজাতির ডাইনোসর। এমন দৃশ্য দেখলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগতে পারে, পৃথিবীর ইতিহাসে এমন কোনো সময় কি ছিল যখন ডাইনোসরের সংখ্যা ছিল কোটি কোটি?

প্রায় ৬ কোটি ৬৬ লাখ বছর আগে এক ভয়াবহ মহাজাগতিক ঘটনার পর ডাইনোসরদের যুগের অবসান ঘটে। তবে বিলুপ্ত হওয়ার আগে প্রায় ১৬ কোটি বছর ধরে তারা পৃথিবীর প্রধান স্থলচর প্রাণী হিসেবে টিকে ছিল। এই দীর্ঘ সময়ে তাদের জনসংখ্যা কত ছিল, তা নিয়ে বিজ্ঞানীদের আগ্রহের শেষ নেই।

সমস্যা হলো, ডাইনোসরদের সংখ্যা নির্ধারণের মতো কোনো প্রত্যক্ষ তথ্য নেই। বিজ্ঞানীরা মূলত জীবাশ্ম বা ফসিলের ওপর নির্ভর করে অতীতের প্রাণিজগত সম্পর্কে ধারণা পান। কিন্তু যেসব ডাইনোসর পৃথিবীতে বাস করেছিল, তাদের খুব সামান্য অংশই জীবাশ্ম হিসেবে সংরক্ষিত হয়েছে। ফলে মোট সংখ্যা নির্ধারণ করতে গবেষকদের বিভিন্ন গাণিতিক মডেল ও আধুনিক বিশ্লেষণ পদ্ধতির আশ্রয় নিতে হয়।

বর্তমানে গবেষকদের ধারণা, পৃথিবীতে প্রায় ১ হাজার ৮০০টির মতো ডাইনোসর গণ (Genus) ছিল। এদের মধ্যে কিছু ছিল তুলনামূলক ছোট আকারের, আবার কিছু প্রজাতি ছিল কয়েক তলা ভবনের সমান বিশাল।

ডাইনোসরের সম্ভাব্য জনসংখ্যা বোঝার জন্য বিজ্ঞানীরা আধুনিক প্রাণীদের সঙ্গেও তুলনা করেছেন। উদাহরণ হিসেবে উত্তর আমেরিকার বাইসনের কথা ধরা যায়। একসময় সেখানে কয়েক কোটি বাইসন বিচরণ করত। ডাইনোসররা ডিমের মাধ্যমে বংশবিস্তার করত এবং অনেক ক্ষেত্রে তাদের প্রজনন হারও বেশি ছিল। সে কারণে গবেষকদের ধারণা, অনেক ডাইনোসর প্রজাতির সংখ্যা অত্যন্ত বড় পরিসরে পৌঁছেছিল।

তবে জনসংখ্যা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে খাদ্যের প্রাপ্যতা ছিল গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিশেষ করে বৃহৎ নিরামিষভোজী ডাইনোসরদের টিকে থাকতে বিপুল পরিমাণ উদ্ভিদের প্রয়োজন হতো। গবেষণায় দেখা গেছে, এসব প্রাণী বনাঞ্চলের গঠনেও প্রভাব ফেলত। বড় ডাইনোসরদের চলাচল ও খাদ্যগ্রহণের কারণে বনভূমিতে আলো প্রবেশের সুযোগ বাড়ত, ফলে নিচুতলার উদ্ভিদ দ্রুত বৃদ্ধি পেত। এর ফলে খাদ্যশৃঙ্খল আরও সমৃদ্ধ হতো এবং বিপুল সংখ্যক প্রাণীর জীবনধারণ সম্ভব হতো।

ডাইনোসরদের সংখ্যা নিয়ে সবচেয়ে আলোচিত গবেষণাগুলোর একটি হয়েছে টি-রেক্সকে কেন্দ্র করে। ২০২১ সালে গবেষকদের একটি দল কম্পিউটারভিত্তিক মডেল ব্যবহার করে দেখায়, পৃথিবীতে কোনো নির্দিষ্ট সময়ে প্রায় ২০ হাজার প্রাপ্তবয়স্ক টি-রেক্স জীবিত থাকতে পারত। একই গবেষণায় ধারণা দেওয়া হয়, প্রজাতিটির পুরো অস্তিত্বকালে শত কোটি সংখ্যক টি-রেক্স জন্ম নিয়েছিল।

পরবর্তীতে আরও উন্নত বিশ্লেষণের মাধ্যমে অন্য গবেষকেরা এই হিসাব সংশোধন করেন। নতুন মডেল অনুযায়ী, কোনো এক সময়ে পৃথিবীতে প্রায় ১৯ হাজার টি-রেক্স বিচরণ করত এবং তাদের মোট সংখ্যা শত কোটির ঘরেই ছিল।

টি-রেক্স ছিল খাদ্যশৃঙ্খলের শীর্ষ পর্যায়ের শিকারি। ফলে তাদের বেঁচে থাকার জন্য বিপুল সংখ্যক তৃণভোজী প্রাণীর প্রয়োজন ছিল। এই তথ্য থেকেই ধারণা করা যায়, একই সময়ে পৃথিবীতে নিরামিষভোজী ডাইনোসরের সংখ্যা ছিল অনেক বেশি।

যদিও নির্দিষ্ট সংখ্যা জানা সম্ভব নয়, তবু গবেষকদের ধারণা অনুযায়ী ডাইনোসরদের স্বর্ণযুগে পৃথিবীতে একসঙ্গে কোটি কোটি ডাইনোসর বসবাস করত। কিছু অনুমান অনুযায়ী, তাদের মোট সংখ্যা বর্তমান বিশ্বের মানব জনসংখ্যার সমপর্যায়ের কিংবা তার চেয়েও বেশি হতে পারে।

আজ পৃথিবীর যে ভূমিতে মানুষ বসবাস করছে, কোটি কোটি বছর আগে সেই একই ভূখণ্ডে বিচরণ করত অসংখ্য ডাইনোসর। তাদের রেখে যাওয়া জীবাশ্মই এখন বিজ্ঞানীদের সামনে উন্মোচন করছে পৃথিবীর এক বিস্ময়কর হারানো অধ্যায়ের গল্প।

প্রতি / এডি / শাআ

আরো সংবাদঃ

আর্কাইভ

August 2026
SSMTWTF
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031 
20G