সুখের ব়্যাংকিংয়ে এগিয়ে রয়েছে জার্মানির যে ছোট শহরগুলো
জার্মানির বিভিন্ন শহরের জীবনমান ও সুখের মাত্রা নিয়ে করা সাম্প্রতিক এক জরিপে উঠে এসেছে চমকপ্রদ তথ্য। ৪০টি শহর নিয়ে পরিচালিত এই জাতীয় জরিপে সবচেয়ে সুখী শহর হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে ছোট শহর এয়ারফুর্টের মানুষ।
‘এসকেএল হ্যাপিনেস অ্যাটলাস’ নামের এই জরিপে দেখা যায়, থুরিঙ্গিয়া রাজ্যের রাজধানী এয়ারফুর্ট এবার ষষ্ঠ স্থান থেকে উঠে সরাসরি প্রথম স্থানে চলে এসেছে। ১০-এর মধ্যে ৭.৭৪ স্কোর পেয়ে শহরটি তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছে। আগের বছরের শীর্ষস্থানধারী কাসেল এবার নেমে গেছে ১৩তম স্থানে।
জরিপ অনুযায়ী, কাসেলেরও নিচে অবস্থান করছে বন, যা রয়েছে ১৫তম স্থানে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বড় শহরের তুলনায় তুলনামূলক ছোট শহরগুলোতে জীবনযাত্রার চাপ কম থাকায় মানুষের সন্তুষ্টির মাত্রা বেশি দেখা যাচ্ছে।
শীর্ষ পাঁচে থাকা অন্যান্য শহরগুলোর মধ্যে রয়েছে বাভারিয়ার আউগসবুর্গ, পশ্চিম জার্মানির ক্রেফেল্ড এবং উত্তরাঞ্চলের কিল। বড় শহরগুলোর মধ্যে জার্মানির সপ্তম বৃহত্তম শহর ড্যুসেলডর্ফ তুলনামূলক ভালো অবস্থান ধরে রেখে তৃতীয় স্থানে জায়গা করে নিয়েছে।
অন্যদিকে, জার্মানির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর হামবুর্গ তালিকার দশম স্থানে রয়েছে। তবে বাভারিয়ার রাজধানী মিউনিখ ২৪তম স্থানে নেমে গিয়ে লাইপসিশের সঙ্গে যৌথভাবে অবস্থান করছে। রাজধানী বার্লিনের অবস্থান আরও নিচে, ৩৫তম স্থানে, একই অবস্থানে রয়েছে নুরেমবার্গ।
জরিপের সবচেয়ে নিচের দিকে রয়েছে উত্তর জার্মানির বন্দরনগরী রোস্টক, যেটি সুখ সূচকে সবচেয়ে কম স্কোর করেছে, মাত্র ৫.৮।
গবেষকদের মতে, ছোট শহরগুলোতে তুলনামূলক কম জনসংখ্যা, কম যানজট, সহজ জীবনযাপন এবং সামাজিক সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতা মানুষের সুখের অনুভূতিকে বাড়িয়ে দেয়। বিপরীতে বড় শহরগুলোতে ব্যস্ততা, ব্যয় এবং চাপ বেশি থাকায় সন্তুষ্টির হার কিছুটা কমে যায়।
‘এসকেএল হ্যাপিনেস অ্যাটলাস’-এর এই জরিপ ইউরোপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জীবনমান বিশ্লেষণ হিসেবে বিবেচিত হয়, যেখানে মানুষের আয়, আবাসন, কাজের পরিবেশ এবং সামাজিক জীবনের মানদণ্ড বিবেচনা করা হয়।
এই ফলাফল আবারও দেখিয়ে দিয়েছে, বড় শহরের উন্নয়ন আর আধুনিকতার ভিড়ের মাঝেও ছোট শহরগুলো এখনো শান্তি ও সুখের প্রতীক হিসেবে এগিয়ে রয়েছে।
প্রতি / এডি / শাআ




















