বঙ্গোপসাগরে উপস্থিতি জোরদারে সাবমেরিন মোতায়েনের পরিকল্পনা পাকিস্তানের

প্রকাশঃ জুন ১৮, ২০২৬ সময়ঃ ১১:৪৮ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ১১:৪৮ অপরাহ্ণ

বঙ্গোপসাগরে নিজেদের নৌ উপস্থিতি জোরদার করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে পাকিস্তান। দেশটির নৌবাহিনীর একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, নতুন হ্যাঙ্গর শ্রেণির সাবমেরিন বহরে যুক্ত হলে পাকিস্তান এ অঞ্চলে আরও সক্রিয়ভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করতে সক্ষম হবে।

সম্প্রতি চীনের সহায়তায় নির্মিত ‘পিএনএস হ্যাঙ্গর’ নামের একটি সাবমেরিন পাকিস্তান নৌবাহিনীতে আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সাবমেরিনটি গ্রহণের জন্য পাকিস্তানি নৌবাহিনীর একটি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন কমোডর ওমর ফারুক। চীন থেকে ফেরার পথে তিনি শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোতে অবস্থানকালে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম দ্য মর্নিং-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ বিষয়ে মন্তব্য করেন।

কমোডর ফারুক বলেন, হ্যাঙ্গর শ্রেণির সাবমেরিনগুলো পাকিস্তানের সামুদ্রিক সক্ষমতা বাড়াবে এবং বঙ্গোপসাগরসহ গুরুত্বপূর্ণ জলসীমায় দেশটির উপস্থিতি বজায় রাখতে সহায়তা করবে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ভবিষ্যতে একই শ্রেণির আরও সাতটি সাবমেরিন নৌবহরে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে।

পাকিস্তানের নৌ ইতিহাসে ‘হ্যাঙ্গর’ নামটি নতুন নয়। ১৯৭১ সালের আগে একই নামে একটি সাবমেরিন দেশটির নৌবাহিনীতে ছিল। সেই সময় ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময় পিএনএস হ্যাঙ্গর ভারতীয় নৌবাহিনীর জাহাজ আইএনএস খুকরিকে ডুবিয়ে দেয়। তবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের পর পাকিস্তানের নৌ তৎপরতা মূলত আরব সাগরকেন্দ্রিক হয়ে পড়ে এবং বঙ্গোপসাগরে তাদের উপস্থিতি অনেকটাই সীমিত হয়ে যায়।

বিশ্লেষকদের মতে, বঙ্গোপসাগর বর্তমানে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত জলসীমা। এ অঞ্চলের মাধ্যমে জ্বালানি ও পণ্য পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ রুট পরিচালিত হয়। ভারত, বাংলাদেশ, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও শ্রীলঙ্কাসহ উপকূলীয় দেশগুলোর জন্য এ সাগরের অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব ক্রমাগত বাড়ছে।

ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় নৌ কমান্ডের অবস্থান বিশাখাপত্তনমে হওয়া এবং আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের কৌশলগত অবস্থানের কারণে দেশটি বঙ্গোপসাগরে দীর্ঘদিন ধরে উল্লেখযোগ্য প্রভাব বজায় রেখেছে। ফলে পাকিস্তানের নতুন সাবমেরিন পরিকল্পনাকে আঞ্চলিক সামুদ্রিক ভারসাম্যের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সাক্ষাৎকারে কমোডর ফারুক নতুন পিএনএস হ্যাঙ্গরকে পাকিস্তান নৌবাহিনীর জন্য একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ সক্ষমতা বৃদ্ধিকারী প্ল্যাটফর্ম’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, মোট আটটি হ্যাঙ্গর শ্রেণির সাবমেরিন নৌবহরে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

উল্লেখ্য, বঙ্গোপসাগর কোনো একক দেশের মালিকানাধীন জলসীমা নয়। আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন অনুযায়ী উপকূলীয় দেশগুলো তাদের নির্ধারিত আঞ্চলিক সমুদ্রসীমা ও একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চলের ওপর অধিকার প্রয়োগ করতে পারে। এর বাইরে থাকা আন্তর্জাতিক জলসীমায় বিভিন্ন দেশের বাণিজ্যিক ও সামরিক নৌযানের চলাচল আন্তর্জাতিক আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।

প্রতি / এডি / শাআ

আরো সংবাদঃ

আর্কাইভ

October 2026
SSMTWTF
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31 
20G