‘এখনো গানের সঙ্গে লড়াই করছি, শিখছি’ : আলম আরা মিনু

প্রকাশঃ অক্টোবর ২৬, ২০২৬ সময়ঃ ৭:৫২ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ৭:৫২ অপরাহ্ণ

বাংলা গানের পরিচিত কণ্ঠশিল্পী আলম আরা মিনু। আধুনিক গান, লোকসংগীত, দেশাত্মবোধক গান ও চলচ্চিত্রের গানে দীর্ঘদিন ধরে শ্রোতাদের মুগ্ধ করে আসছেন তিনি। ‘সোনাদানা দামি গহনা’ কিংবা ‘যে মাটির বুকে ঘুমিয়ে আছে লক্ষ মুক্তিসেনা’র মতো গান তাঁকে শ্রোতাদের কাছে বিশেষ পরিচিতি দিয়েছে। দীর্ঘ সংগীতজীবনে সাফল্যের পাশাপাশি তাঁকে সামলাতে হয়েছে পারিবারিক দায়িত্ব, প্রিয়জন হারানোর বেদনা এবং নানা প্রতিকূলতা।

নিজের অর্জন নিয়ে আত্মতুষ্টিতে ভুগতে চান না এই শিল্পী। তাঁর কাছে সংগীত এমন এক সাধনা, যেখানে শেখার কোনো শেষ নেই। তাই দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা সত্ত্বেও নিজেকে এখনো শিক্ষার্থী হিসেবেই দেখেন তিনি। সংগীতচর্চার শুরুর দিনগুলো, বাবার অনুপ্রেরণা, মঞ্চ ও চলচ্চিত্রের অভিজ্ঞতা, দাম্পত্যজীবনের কঠিন সময় এবং বর্তমান সংগীতাঙ্গনের পরিবর্তন নিয়ে কথা বলেছেন আলম আরা মিনু।

পরিবার থেকেই সংগীতের হাতেখড়ি

ছোটবেলা থেকেই গানের আবহে বেড়ে উঠেছেন আলম আরা মিনু। তাঁর বাবা ছিলেন সংগীতের প্রতি গভীর অনুরাগী। বাড়িতে গানবাজনার জন্য আলাদা ঘর ছিল। সেখানে বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র রাখা থাকত। বাবার সংগীতপ্রেমী বন্ধু ও পরিচিত শিল্পীদের আনাগোনাও ছিল নিয়মিত।

রেডিওতে গান শোনা ছিল তাঁর শৈশবের অন্যতম প্রিয় অভ্যাস। আধুনিক গান থেকে নজরুলসংগীত, ভাটিয়ালি কিংবা ভাওয়াইয়া, বিভিন্ন ধারার গানই তাঁকে আকৃষ্ট করত। স্কুল থেকে ফিরে রেডিওতে শোনা গান নিজে নিজে গাইতেন। শুনে শুনে গান মনে রাখার ক্ষমতাও ছিল তাঁর।

সংগীতের প্রতি এই আগ্রহকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে বাবার অবদানকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন তিনি। ছোটবেলা থেকেই বাবা তাঁকে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নিয়ে যেতেন এবং গান শেখার ব্যবস্থা করতেন। নিয়মিত রেওয়াজের ব্যাপারেও ছিলেন কঠোর। মিনুর স্মৃতিতে, দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর ভোরে উঠে নিয়মিত সংগীতচর্চা করেছেন তিনি।

শাস্ত্রীয় সংগীতের তালিম ও প্রিয় শিল্পীরা

চট্টগ্রামে থাকার সময় ধ্রুব পরিষদ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে সংগীত শেখার সুযোগ পান আলম আরা মিনু। সেখানে শাস্ত্রীয় সংগীতের পাশাপাশি নজরুলসংগীত ও রবীন্দ্রসংগীতসহ বিভিন্ন ধারার গানের সঙ্গে পরিচিত হন। তাঁর সংগীতগুরু ছিলেন শ্রী রাখাল নন্দী। তাঁর কাছে প্রায় পাঁচ বছর শাস্ত্রীয় সংগীতের তালিম নিয়েছেন এই শিল্পী।

গানের পাশাপাশি ছোটবেলায় নাচ শেখা এবং তবলার ক্লাসেও অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। এসব চর্চা সংগীতের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে জানার সুযোগ তৈরি করেছিল।

শৈশবে যেসব শিল্পীর গান তাঁকে বিশেষভাবে প্রভাবিত করেছে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন মেহেদী হাসান, নূরজাহান, লতা মঙ্গেশকর, আশা ভোঁসলে, আবদুল আলীম, মান্না দে ও হেমন্ত মুখোপাধ্যায়। বাবার পছন্দের শিল্পী নূরজাহানের গান শিখে তাঁকে আনন্দ দেওয়ার চেষ্টাও করতেন মিনু।

প্রতিযোগিতায় পুরস্কার থেকে মঞ্চের ব্যস্ততা

ছোটবেলায়ই গানের প্রতিযোগিতায় সাফল্য পেয়েছিলেন আলম আরা মিনু। ঢাকার হাতিরপুল এলাকায় থাকার সময় মেহেরুন্নেসা স্কুলে পড়তেন তিনি। প্রথম শ্রেণিতে পড়ার সময় স্কুলের একটি সংগীত প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে প্রথম স্থান অর্জন করেন। পুরস্কার হিসেবে পেয়েছিলেন বই। পরবর্তী সময়ে জাতীয় শিশু পুরস্কার প্রতিযোগিতাতেও চ্যাম্পিয়ন হওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর।

গান শুনে দ্রুত মুখস্থ করার অভ্যাস এবং নিয়মিত চর্চা তাঁকে মঞ্চে দীর্ঘ সময় গান গাওয়ার জন্য প্রস্তুত করেছিল। তখন বর্তমান সময়ের মতো সহজে গান শোনার প্রযুক্তি ছিল না। ক্যাসেট শুনে শুনে গান তুলে নিতে হতো। প্রচুর গান শোনার অভ্যাসই তাঁর স্মৃতিশক্তি ও গানের ভান্ডার সমৃদ্ধ করেছিল।

চলচ্চিত্রের চেয়ে মঞ্চে বেশি ব্যস্ত ছিলেন কেন?

জনপ্রিয়তা থাকা সত্ত্বেও চলচ্চিত্রে তুলনামূলক কম গান করার পেছনে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক দায়িত্বের কথা জানিয়েছেন আলম আরা মিনু। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, একটা সময় মঞ্চের অনুষ্ঠান নিয়ে এতটাই ব্যস্ত থাকতেন যে চলচ্চিত্রে বেশি কাজ করার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়েছিল।

মাসে অনেক অনুষ্ঠান করতে হতো তাঁকে। সংসারের খরচ মেটানোর পাশাপাশি স্বামীর চিকিৎসার ব্যয়ও বহন করতে হয়েছে। সে সময় অনেকে মঞ্চের অনুষ্ঠান কমিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দিলেও নিয়মিত আয়ের নিশ্চয়তা নিয়ে তাঁকে ভাবতে হতো।

চলচ্চিত্রে প্রতিদিন গান করার সুযোগ থাকে না। অন্যদিকে মঞ্চের অনুষ্ঠান ছিল আয়ের গুরুত্বপূর্ণ উৎস। ফলে পারিবারিক দায়িত্ব পালনের জন্য মঞ্চের কাজ চালিয়ে যাওয়াকে অগ্রাধিকার দিতে হয়েছিল তাঁকে।

সংগীতাঙ্গনে যোগাযোগের গুরুত্ব বুঝেছেন পরে

সংগীতাঙ্গনে কাজের সুযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রে সিন্ডিকেটের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মিনু জানান, ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে এসব বিষয় সম্পর্কে খুব বেশি ধারণা ছিল না তাঁর। নিজের গান, রেওয়াজ, অনুষ্ঠান ও সংসার সামলানো নিয়েই ব্যস্ত থাকতেন।

পরবর্তী সময়ে তাঁর উপলব্ধি হয়েছে, সংগীতের জগতে প্রতিভার পাশাপাশি যোগাযোগও গুরুত্বপূর্ণ। সুরকার, সংগীত পরিচালক ও প্রযোজকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখলে কাজের সুযোগ তৈরিতে সহায়তা হতে পারে।

তবে নিজের সংগীতজীবনে তিনি মূলত গান শেখা, পরিবেশনা এবং ব্যক্তিগত দায়িত্ব পালনের দিকেই বেশি মনোযোগ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

সেলিম আশরাফের সঙ্গে পরিচয় ও দাম্পত্যজীবন

সুরকার সেলিম আশরাফের সঙ্গে আলম আরা মিনুর পরিচয় হয়েছিল অনির্বাণ শিল্পীগোষ্ঠীতে সংগীতচর্চার সময়। তখন তিনি স্কুলের ছাত্রী। সংগঠনটিতে দেশের বিভিন্ন গুণী শিল্পীর আসা-যাওয়া ছিল। সেলিম আশরাফের সংগীতপ্রতিভার প্রতি শুরু থেকেই শ্রদ্ধা ছিল তাঁর।

পরে সেলিম আশরাফ তাঁকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। মিনুর ভাষ্য অনুযায়ী, বিষয়টি অনেকটা পারিবারিকভাবে বিয়ের মতো হলেও প্রস্তাবটি প্রথমে তাঁর কাছেই এসেছিল।

বিয়ের পর তাঁদের জীবনে কঠিন সময় নেমে আসে। সেলিম আশরাফের গুরুতর শারীরিক সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসার জন্য তাঁদের লন্ডনে যেতে হয়। সেখানে প্রায় দেড় বছর অবস্থান করতে হয়েছিল। স্বামীর চিকিৎসা, সংসারের ব্যয় এবং পরিবারের দায়িত্ব একই সঙ্গে সামলাতে হয়েছে মিনুকে।

এই সময়েও তিনি নিয়মিত গান করেছেন এবং বিদেশের বিভিন্ন স্থানে সংগীত পরিবেশন করেছেন। সেখান থেকে পাওয়া আয় দিয়ে চিকিৎসা ও পরিবারের খরচ চালাতে হয়েছে তাঁকে। অভিজ্ঞতাটি মানসিকভাবে কঠিন হলেও জীবনকে শুধু সংগ্রামের মধ্য দিয়ে দেখেন না তিনি। তাঁর কাছে দায়িত্ব পালনও জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

‘যে মাটির বুকে ঘুমিয়ে আছে লক্ষ মুক্তিসেনা’ গানের পেছনের গল্প

আলম আরা মিনুর সংগীতজীবনের অন্যতম পরিচিত গান ‘যে মাটির বুকে ঘুমিয়ে আছে লক্ষ মুক্তিসেনা’। গানটির কথা লিখেছেন নাসিমা খান এবং সুর করেছেন সেলিম আশরাফ। এটি ‘ইতিহাসের রবে’ অ্যালবামের অন্তর্ভুক্ত ছিল। অ্যালবামটিতে ছয়টি দেশের গান এবং ছয়টি ভাষার গান ছিল বলে জানিয়েছেন শিল্পী।

দেশাত্মবোধক গানের অ্যালবাম প্রকাশের ক্ষেত্রে তখন বাণিজ্যিক সাফল্য নিয়ে সংশয় ছিল। অনেক প্রতিষ্ঠান এ ধরনের গান প্রকাশে আগ্রহ দেখাত না। তারপরও গানগুলো শ্রোতাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ইচ্ছা থেকে উদ্যোগ চালিয়ে যান মিনু। পরে সাউন্ডটেক থেকে অ্যালবামটি প্রকাশিত হয়।

গানটি যে এতটা জনপ্রিয়তা পাবে, তা শুরুতে কল্পনা করেননি তিনি। সময়ের সঙ্গে গানটি শ্রোতাদের মধ্যে বিশেষ জায়গা করে নেয় এবং তাঁর পরিচিতির অন্যতম অংশ হয়ে ওঠে।

‘সোনাদানা দামি গহনা’ যেভাবে চলচ্চিত্রে পৌঁছাল

‘সোনাদানা দামি গহনা’ গানটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে আকস্মিক এক অভিজ্ঞতা। মিনুর স্মৃতিচারণ অনুযায়ী, একদিন শহীদুল্লাহ ফরায়েজি তাঁকে ফোন করে দ্রুত স্টুডিওতে যেতে বলেন। তখন তিনি বেইলি রোডে ছিলেন। সেখান থেকে স্টুডিওতে গিয়ে গানটি রেকর্ড করেন।

প্রথমে গানটি নিজের অ্যালবামের জন্য গেয়েছিলেন তিনি। গানটির ধরন তাঁর ব্যক্তিগত পছন্দের সঙ্গে পুরোপুরি মিলে না যাওয়ায় শুরুতে খুব একটা আগ্রহীও ছিলেন না। পরে জানতে পারেন, গানটি ‘মাটির ফুল’ চলচ্চিত্রে ব্যবহার করা হয়েছে।

নিজের প্রত্যাশার বাইরে গিয়ে গানটি জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এখনো শ্রোতারা গানটি শোনেন, যা তাঁর সংগীতজীবনের উল্লেখযোগ্য অভিজ্ঞতাগুলোর একটি।

নিয়মিত রেওয়াজই কণ্ঠচর্চার ভিত্তি

দীর্ঘ সময় মঞ্চে গান গাওয়ার ফলে কণ্ঠের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে মিনু জানান, নিয়মিত পরিবেশনা তাঁর কাছে কণ্ঠচর্চারও একটি অংশ ছিল। তবে গান গাওয়ার অভ্যাস থাকলেই যে রেওয়াজের প্রয়োজন ফুরিয়ে যায়, তা মনে করেন না তিনি।

তাঁর মতে, সংগীতচর্চায় নিয়মিত রেওয়াজ, কণ্ঠের যত্ন এবং সঠিক পদ্ধতিতে গান শেখার কোনো বিকল্প নেই। দীর্ঘদিন গান করলেও নিজেকে প্রস্তুত রাখার জন্য অনুশীলন চালিয়ে যাওয়া জরুরি।

প্রিয়জন হারানোর শূন্যতা এখনো অনুভব করেন

ব্যক্তিজীবনে বাবা-মা ও বোনদের হারানো আলম আরা মিনুর জন্য গভীর বেদনার অভিজ্ঞতা। বিশেষ করে মা ও বড় বোনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। তাঁদের অনুপস্থিতি এখনো অনুভব করেন তিনি। স্বামী সেলিম আশরাফকেও হারিয়েছেন।

এই শূন্যতা পূরণ হওয়ার নয় বলে মনে করেন শিল্পী। এখন প্রিয়জনদের স্মৃতি, মেয়েকে ঘিরে জীবন এবং সংগীতচর্চার মধ্য দিয়েই দিন কাটে তাঁর। দীর্ঘ সংগীতজীবনের সাফল্যের আড়ালে ব্যক্তিগত জীবনের এই অভিজ্ঞতাগুলোও তাঁর পথচলার অংশ হয়ে আছে।

ভাইরাল হওয়াই ভালো গানের একমাত্র মাপকাঠি নয়

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গানের ছোট অংশ ভাইরাল হওয়ার প্রবণতা নিয়ে আলম আরা মিনুর দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট। সময়ের সঙ্গে গান প্রচারের মাধ্যম বদলাবে, এটিকে স্বাভাবিক বলেই মনে করেন তিনি। বর্তমানে ২০ বা ৩০ সেকেন্ডের কোনো অংশ দ্রুত জনপ্রিয়তা পেতে পারে।

কিন্তু কোনো গান ভাইরাল হওয়া আর সেটি মানসম্পন্ন হওয়া এক বিষয় নয় বলে মনে করেন এই শিল্পী। তাঁর মতে, একটি গানের প্রকৃত মান নির্ভর করে সুর, কথা, গায়কী, সংগীতায়োজন এবং তার ভেতরের অনুভূতির ওপর। শুধু সাময়িক জনপ্রিয়তার দিকে তাকিয়ে গান তৈরি করলে দীর্ঘমেয়াদে সংগীতাঙ্গনে টিকে থাকা কঠিন হতে পারে।

সংগীতে এআইয়ের ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ

সংগীত তৈরিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের ব্যবহার বাড়ায় শিল্পীদের কর্মসংস্থান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আলম আরা মিনু। তাঁর মতে, প্রযুক্তির এই পরিবর্তন সংগীতশিল্পের কাজের ধরনকে প্রভাবিত করতে পারে, বিশেষ করে গান তৈরি ও পরিবেশনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে।

তিনি চান, প্রযুক্তি মানুষের কাজকে সহজ করার উপায় হয়ে উঠুক, মানুষের জীবিকা কেড়ে নেওয়ার বিকল্প নয়। কারণ তাঁর দৃষ্টিতে সংগীত কেবল সুর ও শব্দের সমন্বয় নয়, এর সঙ্গে মানুষের অনুভূতি ও প্রকাশের গভীর সম্পর্ক রয়েছে।

নতুনদের জন্য তাঁর বার্তা

বর্তমান প্রজন্মের সংগীতশিল্পীদের মধ্যে প্রতিভার অভাব দেখেন না আলম আরা মিনু। তবে আগের তুলনায় অ্যালবাম প্রকাশ এবং নিয়মিত টেলিভিশন অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার সুযোগ কমে যাওয়ায় নতুনদের সামনে ভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

এ পরিস্থিতিতেও হতাশ না হয়ে নিয়মিত অনুশীলন চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন এই শিল্পী। তাঁর মতে, গানের কথা, সুর এবং শুদ্ধ পরিবেশনার প্রতি মনোযোগ দিতে হবে। শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে গান করলে দীর্ঘস্থায়ী পরিচিতি তৈরি করা কঠিন।

দীর্ঘ সংগীতজীবনের অভিজ্ঞতা থেকে আলম আরা মিনুর উপলব্ধি, সংগীত এমন একটি সাধনা, যেখানে শেখা কখনো থেমে থাকে না। তাই পরিচিতি ও সাফল্য অর্জনের পরও নিজেকে পূর্ণাঙ্গ মনে করেন না তিনি। যত দিন বেঁচে থাকবেন, গান শেখার এবং নিজের চর্চাকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যেতে চান।

প্রতি / এডি / শাআ

আরো সংবাদঃ

আর্কাইভ

October 2026
SSMTWTF
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31 
20G