নিজের আয়কর নিজে হিসাব করতে যে বিষয়গুলো জানা জরুরি

প্রকাশঃ জুলাই ৪, ২০২৬ সময়ঃ ৯:৫১ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ৯:৫১ অপরাহ্ণ

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের জন্য আয়করের কাঠামোয় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে সরকার। করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়ানোর পাশাপাশি আগের ৫ শতাংশ করহার বাতিল করে নতুন করস্ল্যাব কার্যকর করা হয়েছে। ফলে কিছু করদাতার করের পরিমাণ আগের মতোই থাকলেও নির্দিষ্ট আয়ের পর থেকে করের বোঝা বেড়েছে।

তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি, করযোগ্য আয় করমুক্ত সীমা অতিক্রম করলে ন্যূনতম ৫ হাজার টাকা কর পরিশোধের বিধান বহাল রয়েছে।

নতুন করমুক্ত আয়সীমা

নতুন ব্যবস্থায় সাধারণ করদাতাদের জন্য করমুক্ত বার্ষিক আয় ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা করা হয়েছে।

এ ছাড়া,

  • নারী ও ৬৫ বছরের বেশি বয়সী প্রবীণ করদাতাদের জন্য করমুক্ত সীমা ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
  • প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও তৃতীয় লিঙ্গের করদাতাদের জন্য ৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা।
  • গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও জুলাইযোদ্ধাদের জন্য ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

নতুন করহার

সাধারণ করদাতাদের ক্ষেত্রে করহার হবে:

  • প্রথম ৪ লাখ টাকা: করমুক্ত
  • পরবর্তী ৩ লাখ টাকা: ১০ শতাংশ
  • পরবর্তী ৪ লাখ টাকা: ১৫ শতাংশ
  • পরবর্তী ৫ লাখ টাকা: ২০ শতাংশ
  • পরবর্তী ২০ লাখ টাকা: ২৫ শতাংশ
  • অবশিষ্ট আয়ের ওপর: ৩০ শতাংশ

আগের অর্থবছরে করমুক্ত সীমা ছিল ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এরপর প্রথম ১ লাখ টাকার ওপর ৫ শতাংশ কর দিতে হতো। নতুন কাঠামোয় সেই ৫ শতাংশ স্ল্যাব পুরোপুরি তুলে দেওয়া হয়েছে।

যাদের করের পরিমাণ অপরিবর্তিত

বার্ষিক ৬ লাখ ও ৭ লাখ টাকা আয়ের করদাতাদের করের অঙ্ক আগের মতোই রয়েছে।

  • ৬ লাখ টাকা আয় হলে কর ২০ হাজার টাকা।
  • ৭ লাখ টাকা আয় হলে কর ৩০ হাজার টাকা।

করমুক্ত সীমা বাড়লেও ৫ শতাংশ করস্ল্যাব বাতিল হওয়ায় এই দুই পরিবর্তন একে অন্যকে ভারসাম্য করেছে।

অন্যদিকে, ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত আয়ের ক্ষেত্রে বড় সুবিধা মিলেছে। আগে ন্যূনতম কর হিসেবে ৫ হাজার টাকা দিতে হলেও এখন করমুক্ত সীমা ৪ লাখ টাকা হওয়ায় এ আয়ে কোনো কর দিতে হবে না।

নিচের হিসাবগুলো বিনিয়োগজনিত কর রেয়াত ছাড়া কেবল করযোগ্য আয়ের ভিত্তিতে করা হয়েছে।

মাসিক আয় অনুযায়ী করের হিসাব

মাসিক আয় ৩৩ হাজার ৩৩৩ টাকা
বার্ষিক আয় ৪ লাখ টাকা। নতুন নিয়মে কোনো আয়কর দিতে হবে না।

মাসিক আয় ৫০ হাজার টাকা
বার্ষিক আয় ৬ লাখ টাকা। আগের মতোই কর ২০ হাজার টাকা।

মাসিক আয় প্রায় ৫৮ হাজার ৩৩৩ টাকা
বার্ষিক আয় ৭ লাখ টাকা। কর অপরিবর্তিত, ৩০ হাজার টাকা।

মাসিক আয় ৬২ হাজার ৫০০ টাকা
বার্ষিক আয় ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। আগে কর ছিল ৩৫ হাজার টাকা, এখন ৩৭ হাজার ৫০০ টাকা। অর্থাৎ ২ হাজার ৫০০ টাকা বেশি।

মাসিক আয় প্রায় ৮৩ হাজার ৩৩৩ টাকা
বার্ষিক আয় ১০ লাখ টাকা। আগে কর ছিল ৬৭ হাজার ৫০০ টাকা, এখন ৭৫ হাজার টাকা। অতিরিক্ত কর ৭ হাজার ৫০০ টাকা।

মাসিক আয় ১ লাখ টাকা
বার্ষিক আয় ১২ লাখ টাকা। আগের ৯৭ হাজার ৫০০ টাকার পরিবর্তে এখন দিতে হবে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা। অর্থাৎ কর বেড়েছে ১২ হাজার ৫০০ টাকা।

মাসিক আয় ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা
বার্ষিক আয় ১৫ লাখ টাকা। আগে কর ছিল ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা, এখন ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা। অতিরিক্ত কর ২০ হাজার টাকা।

মাসিক আয় প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা
বার্ষিক আয় ১৮ লাখ টাকা। আগের কর ২ লাখ ১০ হাজার টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা। অর্থাৎ ৩০ হাজার টাকা বেশি।

মাসিক আয় প্রায় ১ লাখ ৬৭ হাজার টাকা
বার্ষিক আয় ২০ লাখ টাকার বেশি হলে আগে কর দিতে হতো ২ লাখ ৫৮ হাজার ৫০০ টাকা। নতুন নিয়মে কর হবে ২ লাখ ৯১ হাজার টাকা। ফলে অতিরিক্ত ৩২ হাজার ৫০০ টাকা কর গুনতে হবে।

এক নজরে পরিবর্তন

নতুন করব্যবস্থায় করমুক্ত আয়ের সীমা বৃদ্ধি পেলেও ৫ শতাংশের করস্ল্যাব বাতিল করা হয়েছে। ফলে কম আয়ের করদাতারা কিছুটা স্বস্তি পেলেও মধ্যম ও উচ্চ আয়ের অনেক করদাতার করের পরিমাণ আগের তুলনায় বেড়েছে। তাই আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার আগে নতুন স্ল্যাব অনুযায়ী নিজের করের হিসাব মিলিয়ে নেওয়াই হবে সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।

প্রতি / এডি / শাআ

আরো সংবাদঃ

আর্কাইভ

July 2026
SSMTWTF
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031
20G