বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার ইলন মাস্ক, ১ ট্রিলিয়নে এর পরিমাণ কত?

প্রকাশঃ জুন ১৪, ২০২৬ সময়ঃ ১১:১৪ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ১১:১৪ অপরাহ্ণ

বিশ্বের ধনীদের তালিকায় বহুদিন ধরেই শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন ইলন মাস্ক। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তার সম্পদ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে, কারণ বিভিন্ন আর্থিক বিশ্লেষণে তার মোট সম্পদের মূল্য ১ ট্রিলিয়ন ডলারের সীমা অতিক্রম করেছে বলে উল্লেখ করা হচ্ছে। এই অঙ্ক এতটাই বিশাল যে সাধারণ মানুষের পক্ষে এর প্রকৃত ব্যাপ্তি কল্পনা করাও কঠিন।

মাস্কের সম্পদের বড় অংশ এসেছে তার মালিকানাধীন প্রযুক্তি ও মহাকাশভিত্তিক কোম্পানির শেয়ার থেকে। বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা টেসলা এবং মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের বাজারমূল্য বৃদ্ধির ফলে তার সম্পদের পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি, এই সম্পদ নগদ অর্থ নয়। এটি মূলত শেয়ার ও বিনিয়োগ সম্পদের বাজারমূল্যের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত। ফলে শেয়ারবাজারের ওঠানামার সঙ্গে সঙ্গে সম্পদের পরিমাণও পরিবর্তিত হতে পারে।

১ ট্রিলিয়ন ডলার আসলে কত বড় অঙ্ক, তা বোঝার জন্য একটি সহজ উদাহরণ দেওয়া যায়। কেউ যদি প্রতি ঘণ্টায় ১০ লাখ (১ মিলিয়ন) ডলার করে খরচ করেন এবং দিন-রাত বিরতিহীনভাবে সেই খরচ চালিয়ে যান, তবুও পুরো ১ ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় করতে একশ বছরেরও বেশি সময় লেগে যাবে।

বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে তুলনা করলে এই অঙ্ক আরও বিস্ময়কর মনে হয়। বর্তমানে বিশ্বের বেশির ভাগ দেশের মোট অর্থনৈতিক উৎপাদনের পরিমাণও ১ ট্রিলিয়ন ডলারের নিচে। অর্থাৎ বহু দেশের বার্ষিক অর্থনীতির আকারের চেয়েও বড় হতে পারে এমন সম্পদের মূল্য।

শুধু দেশ নয়, বিশ্বের অনেক বড় শহরের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মূল্যও এই অঙ্কের চেয়ে কম। যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী নগরীর মোট উৎপাদনও ট্রিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি হলেও তা অতিক্রম করতে পারে না।

রিয়েল এস্টেট খাতের সঙ্গে তুলনা করলেও একই চিত্র দেখা যায়। বড় বড় শহরের সব আবাসিক ও বাণিজ্যিক সম্পত্তির সম্মিলিত মূল্য অনেক ক্ষেত্রেই ১ ট্রিলিয়ন ডলারের নিচে অবস্থান করে।

অটোমোবাইল শিল্পও এর ব্যতিক্রম নয়। একটি বছরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বিক্রি হওয়া নতুন গাড়িগুলোর মোট বাজারমূল্যও ট্রিলিয়ন ডলারের চেয়ে কম থাকে। অর্থাৎ একটি দেশের পুরো বছরের নতুন গাড়ি বিক্রির পরিমাণও এই সম্পদের সমকক্ষ নয়।

বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের সম্পদের সঙ্গে তুলনা করলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়। প্রযুক্তি খাতের কয়েকজন শীর্ষ ধনীর সম্মিলিত সম্পদও অনেক সময় এক ট্রিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি পৌঁছায়, কিন্তু তা অতিক্রম করতে পারে না।

ক্রীড়া জগতেও একই চিত্র দেখা যায়। বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান পেশাদার স্পোর্টস দলগুলোর সম্মিলিত বাজারমূল্যও এই বিশাল সম্পদের তুলনায় অনেক কম।

অবশ্য অর্থনীতিবিদরা মনে করিয়ে দেন, ব্যক্তিগত সম্পদের হিসাব মূলত বাজারমূল্যের ওপর নির্ভরশীল। তাই কোনো ধনকুবেরের সম্পদ এক ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে মানেই তার কাছে সমপরিমাণ নগদ অর্থ রয়েছে, এমনটা নয়। তবুও এই সংখ্যা আধুনিক ব্যবসা ও প্রযুক্তি খাতের অভূতপূর্ব মূল্য সৃষ্টির একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এক সময় বিলিয়ন ডলারের সম্পদই ছিল বিস্ময়ের বিষয়। এখন ট্রিলিয়ন ডলার নিয়ে আলোচনা দেখাচ্ছে, বিশ্বের বৃহৎ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর মূল্য ও প্রভাব কত দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

প্রতি / এডি / শাআ

মন্তব্য করুনঃ

পাঠকের মন্তব্য

আরো সংবাদঃ

মন্তব্য করুনঃ

পাঠকের মন্তব্য



আর্কাইভ

July 2026
SSMTWTF
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
2627282930 
20G