জাতিসংঘের নতুন মহাসচিব হিসেবে আলোচনায় উঠছে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নাম
জাতিসংঘের বর্তমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মেয়াদ চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হতে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে সংস্থাটির নতুন মহাসচিব কে হতে পারেন, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্ভাব্য কয়েকজন বৈশ্বিক ব্যক্তিত্বের নামের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিকভাবে উঠে এসেছে বাংলাদেশের নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নামও।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনকে সামনে রেখে নতুন মহাসচিব নির্বাচন নিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ের আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন দেশের সাবেক রাষ্ট্রপ্রধান, কূটনীতিক ও আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্বদের নাম সম্ভাব্য তালিকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে।
বিশ্বব্যাপী সামাজিক ব্যবসা, দারিদ্র্য বিমোচন ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে দীর্ঘদিনের ভূমিকার কারণে ড. ইউনূস আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সুপরিচিত একটি নাম। শান্তিতে নোবেল পুরস্কার অর্জন এবং বৈশ্বিক বিভিন্ন ইস্যুতে সক্রিয় অংশগ্রহণ তাকে আলোচনার কেন্দ্রেও রাখছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
তবে মহাসচিব নির্বাচনকে ঘিরে আঞ্চলিক ভারসাম্যের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ২০০৭ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত দক্ষিণ কোরিয়ার বান কি মুন এশিয়া অঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব করে জাতিসংঘের মহাসচিব ছিলেন। এরপর ২০১৭ সাল থেকে দায়িত্ব পালন করছেন পর্তুগালের আন্তোনিও গুতেরেস।
এ কারণে জাতিসংঘের অলিখিত আঞ্চলিক রোটেশন নীতির ভিত্তিতে এবার আফ্রিকা কিংবা লাতিন আমেরিকার কোনো প্রার্থী এগিয়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা।
এছাড়া জাতিসংঘের মহাসচিব হতে হলে নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য দেশের সমর্থন পাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে কোনো সদস্য দেশের ভেটো না থাকাও বাধ্যতামূলক। ফলে এই পদে চূড়ান্ত নির্বাচনের ক্ষেত্রে বৈশ্বিক রাজনৈতিক সমীকরণ বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা, ভূরাজনৈতিক ভারসাম্য এবং পরাশক্তিগুলোর সমর্থনের সমন্বয়ই শেষ পর্যন্ত পরবর্তী মহাসচিব নির্বাচনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
সব দিক বিবেচনায় ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নাম এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে সামনে না এলেও আন্তর্জাতিক মহলে বিষয়টি নিয়ে আগ্রহ ও আলোচনা বাড়ছে।
প্রতি / এডি / শাআ













