প্রধানমন্ত্রীর নতুন বাসভবনে নিরাপত্তায় যোগ হচ্ছে বাংকার ও গোপন টানেল
বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রীর জন্য একটি স্থায়ী ও আধুনিক বাসভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানাচ্ছে, আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করে এমন একটি বাসভবন তৈরি করা হবে যেখানে নিরাপত্তা, যোগাযোগ সুবিধা এবং কার্যকারিতা—সবকিছুকে সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভবনের নিচে অত্যাধুনিক বাংকার এবং গোপন টানেল নির্মাণের বিষয়টি রাখা হয়েছে। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সুরক্ষিত স্থানে আশ্রয় নেওয়া এবং নিরাপদে স্থান ত্যাগ করার সুযোগ নিশ্চিত করতেই এই ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। বহির্বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধানদের বাসভবনের নকশা ও নিরাপত্তা কাঠামো বিশ্লেষণ করে এই পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশের প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্দিষ্ট সরকারি বাসভবন না থাকায় বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। পূর্বে ব্যবহৃত সরকারি বাসভবন এখন অন্য কাজে রূপান্তরিত হওয়ায় নতুন করে একটি স্থায়ী ঠিকানা নির্ধারণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। বর্তমানে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ব্যবহার করা হলেও সেটিকে স্থায়ী বাসভবন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে না।
এদিকে, নতুন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের জন্য রাজধানীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা প্রাথমিকভাবে বিবেচনায় রাখা হয়েছে। এর মধ্যে মিন্টো রোড, হেয়ার রোড এবং বেইলী রোড উল্লেখযোগ্য। এসব এলাকা নির্বাচন করার ক্ষেত্রে সচিবালয়, সংসদ ভবন এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সঙ্গে সহজ যোগাযোগ নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সম্ভাব্য জায়গা চিহ্নিত করার দায়িত্ব ইতোমধ্যে গণপূর্ত অধিদপ্তরকে দেওয়া হয়েছে। তারা বিভিন্ন স্থানের উপযোগিতা যাচাই করে একটি প্রস্তাব তৈরি করবে, যা পরবর্তীতে মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
প্রয়োজনে একাধিক ভবন অধিগ্রহণ করে একটি সমন্বিত বাসভবন কমপ্লেক্স তৈরি করার চিন্তাভাবনাও রয়েছে। এতে নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা আরও সহজ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নিরাপত্তার বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। পরিকল্পনায় এমন ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে যাতে যেকোনো ধরনের হুমকি—বিশেষ করে বোমা হামলা বা অন্যান্য নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি—থেকে দ্রুত সুরক্ষা পাওয়া যায়। এজন্যই বাংকার ও টানেল ব্যবস্থাকে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে রাখা হয়েছে।
এছাড়া বাসভবনটি এমনভাবে নির্মাণ করা হবে যাতে রাষ্ট্রীয় অতিথিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ, সরকারি অনুষ্ঠান আয়োজন এবং দৈনন্দিন প্রশাসনিক কাজ পরিচালনা সহজ হয়। আধুনিক স্থাপত্যশৈলী, উন্নত নিরাপত্তা প্রযুক্তি এবং কার্যকর ব্যবস্থাপনার সমন্বয়ে এটি একটি পূর্ণাঙ্গ সরকারি বাসভবন হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, নতুন সরকারপ্রধানের জন্য একটি নিরাপদ, আধুনিক ও কার্যকর বাসভবন নির্মাণের লক্ষ্যে প্রাথমিক কাজ ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে এবং ধাপে ধাপে এটি বাস্তবায়নের দিকে এগোচ্ছে।
প্রতি / এডি / শাআ













