ধানের মাঠে রঙিন আম চাষ, কুমিল্লায় কৃষকের নজরকাড়া সাফল্য

প্রকাশঃ জুন ১০, ২০২৬ সময়ঃ ১০:৩৪ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ১০:৩৪ অপরাহ্ণ

কিউজাই, চিয়াংমাই, কিং অব চাকাপাত, ব্যানানা ম্যাঙ্গো ও বারি-৪সহ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন জাতের আম চাষ করে সাফল্য পেয়েছেন কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার শিকারপুর গ্রামের কৃষক সুরুজ মিয়া। ধানি জমিতে প্রথমবারের মতো আমের বাগান গড়ে তিনি এলাকায় নতুন উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন।

প্রায় ১১০ শতক জমিতে গড়ে ওঠা এই মিশ্র ফলের বাগানে শুধু আমই নয়, রয়েছে চায়না কমলা, কুল, মাল্টা ও পেয়ারা সহ নানা ধরনের ফল। পাশাপাশি নিজের বাড়ির আঙিনায় গড়ে তোলা নার্সারিতে তিনি এসব ফলের চারা উৎপাদন করে বিক্রিও করছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, ধানের মাঠের এক কোণে ডোবার পাড় ঘেঁষে ছোট আকারের আমের বাগান। গাছে থোকায় থোকায় ঝুলছে রঙিন আম, যা দখিনা বাতাসে দুলছে। কোনো কোনো আমের ওজন এক কেজিরও বেশি। বাগান ঘুরে দেখছেন স্থানীয় কৃষকেরা, যাদের অনেকেই প্রথমে বিষয়টিকে অবিশ্বাসের চোখে দেখেছিলেন।

প্রতিবেশী কৃষক সফিউল্লাহ ও মো. খোকন বলেন, “এ ধরনের আমের নাম আগে কখনো শুনিনি। ধানের জমিতে ফল চাষ দেখে প্রথমে আমরা অবাক হয়েছিলাম। পরে ভালো ফলন দেখে এখন নিজেরাও চাষে আগ্রহী হয়েছি।”

কৃষক সুরুজ মিয়া জানান, ইউটিউব দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি এই চাষ শুরু করেন। ধানের জমির ডোবার পাড়ে আমের চারা লাগিয়ে ধীরে ধীরে বাগান গড়ে তোলেন। শুরুতে অনেকে সমালোচনা করলেও এখন ফলন দেখে সবাই আগ্রহী হয়ে উঠছে। তার নার্সারি থেকে অনেকেই চারা সংগ্রহ করছেন।

স্থানীয় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা গোলাম সারোয়ার ভূঁইয়া বলেন, সুরুজ মিয়া আগে প্রবাসে ছিলেন এবং পরে কৃষিকাজে যুক্ত হন। তাকে ফল চাষে উৎসাহিত করা হয় এবং নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হয়। তার উদ্যোগে এলাকায় কুলসহ বিভিন্ন ফলের চাষ বাড়ছে। তিনি বলেন, শিকারপুর গ্রাম ধীরে ধীরে ফল চাষের একটি পরিচিত এলাকায় পরিণত হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে এই প্রবণতা আরও বাড়বে।

প্রতি / এডি / শাআ

আরো সংবাদঃ

মন্তব্য করুনঃ

পাঠকের মন্তব্য



আর্কাইভ

June 2026
SSMTWTF
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930 
20G