যে ফুলটির পরিচয় নিয়ে সবচেয়ে বেশি বিভ্রান্তি রয়েছে
বাড়ির বাগান, পার্ক কিংবা সড়কের ডিভাইডারে প্রায়ই চোখে পড়ে উজ্জ্বল লাল রঙের একটি ফুল। তবে অনেকেই এটিকে চেরি ফুল বা জারুল ভেবে ভুল করেন। অথচ এটি সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি প্রজাতি, যার নাম ফুরুস।
শুক্রবার রংপুর মহানগরীর বৃহত্তম মুন্সিপাড়া কবরস্থানে ফুটে থাকা ফুরুস ফুল প্রকৃতিপ্রেমীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। বর্ষার সবুজের মাঝে এর রঙিন থোকা ফুল পরিবেশে এনে দেয় আলাদা সৌন্দর্য।
ফুরুসের ইংরেজি নাম Crape Myrtle এবং এর বৈজ্ঞানিক নাম Lagerstroemia indica। এটি গুল্মজাতীয় একটি শোভাবর্ধনকারী উদ্ভিদ। লাল রঙের পাশাপাশি সাদা, গোলাপি ও বেগুনি রঙেও এ ফুল ফুটতে দেখা যায়।
বাংলা একাডেমির সহ-পরিচালক এবং পায়রাবন্দ বেগম রোকেয়া স্মৃতিকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও কৃষিবিদ আবিদ করিম মুন্নার ভাষ্য, ফুরুসের আদি নিবাস চীন বলে ধারণা করা হয়। তবে বাংলাদেশেও এর দেশীয় জাত রয়েছে। গাছটি প্রায় চার মিটার পর্যন্ত উঁচু হতে পারে। এর কাণ্ড বাদামি রঙের, ডালপালা শক্ত এবং পাতাগুলো ডিম্বাকার ও মসৃণ।
বর্ষাকালে ডালের আগায় বড় বড় থোকায় ফুল ফোটে, যা সহজেই নজর কাড়ে। সাদা, গোলাপি, লাল ও বেগুনি রঙের ফুলে গাছটি হয়ে ওঠে আরও আকর্ষণীয়। কলম ও শিকড়ের মাধ্যমে এ গাছের বংশবিস্তার করা যায়। এছাড়া বসন্তে গাছ ছাঁটাই করলে নতুন ডালে আরও বেশি ফুল ফোটে বলে জানান এই কৃষিবিদ।
প্রকৃতির সৌন্দর্য বাড়ানো এই ফুলটি আমাদের চারপাশে থাকলেও এর প্রকৃত নাম ও পরিচয় সম্পর্কে এখনও অনেকেরই স্পষ্ট ধারণা নেই। তাই চেরি বা জারুল নয়, বর্ষায় রঙের ছটা ছড়ানো এই ফুলটির সঠিক নাম ফুরুস।
প্রতি / এডি / শাআ









