ভাদ্র মাসে গরম যেন আরও বেশি, এর কারণ কী?

প্রকাশঃ আগস্ট ২৯, ২০২৬ সময়ঃ ১০:১৬ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ১০:১৬ অপরাহ্ণ

ভাদ্র মাসের মাঝামাঝি সময়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি হচ্ছে। কোথাও কম, কোথাও আবার তুলনামূলক বেশি বৃষ্টিপাত হলেও গরমের অস্বস্তি কাটছে না। এর সঙ্গে লোডশেডিং যুক্ত হওয়ায় ঘরেও স্বস্তি পাচ্ছেন না অনেকে।

প্রশ্ন উঠছে, বৃষ্টি হওয়ার পরও কেন এত গরম অনুভূত হচ্ছে? ভাদ্রের এই চেনা ভ্যাপসা আবহাওয়ার পেছনে আসলে কী কারণ রয়েছে?

আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ শনিবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, ভাদ্র মাসে এমন গরম বাংলাদেশের স্বাভাবিক আবহাওয়ারই অংশ। একসময় গ্রামবাংলায় এই সময়ের গরমকে ‘ভাদ্রের তালপাকা গরম’ বলা হতো।

তার ব্যাখ্যায়, ভ্যাপসা গরমের অন্যতম প্রধান কারণ হলো বাতাসে অতিরিক্ত জলীয় বাষ্প। বর্ষাকালে দেশের খাল-বিল, নদী ও অন্যান্য জলাশয়ে প্রচুর পানি জমে থাকে। রোদ উঠলে সেই পানি থেকে বাষ্প তৈরি হয়ে বাতাসে আর্দ্রতা বাড়িয়ে দেয়।

এ ছাড়া এ সময় দক্ষিণ, দক্ষিণ-পূর্ব কিংবা দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে সমুদ্রের ওপর দিয়ে বাতাস দেশে প্রবেশ করে। ফলে সেই বাতাসেও জলীয় বাষ্পের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি থাকে।

বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকলে এর তাপ ধারণের ক্ষমতাও বাড়ে। ফলে আশপাশের বাতাস উষ্ণ থাকার পাশাপাশি সূর্যের তাপও বেশি অনুভূত হয়। এর মধ্যে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কিছুটা কমে গেলে ভ্যাপসা গরম আরও তীব্র বলে মনে হয়।

এল নিনোর প্রভাব নিয়েও আলোচনা

দেশের এই গরমের সঙ্গে বৈশ্বিক আবহাওয়ার পরিবর্তনের বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। ‘এল নিনো’ পরিস্থিতি এবার শক্তিশালী হয়ে ওঠার আশঙ্কা রয়েছে বলে আগে থেকেই সতর্ক করে আসছেন আবহাওয়াবিদরা।

বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ২০২৬ সালের দ্বিতীয়ার্ধে শক্তিশালী এল নিনো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। গত জুনে অস্ট্রেলিয়ার আবহাওয়া ব্যুরোও প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্যাঞ্চলে এল নিনো ধরনের আবহাওয়ার বিকাশের কথা জানিয়েছিল। পরিস্থিতি আরও তীব্র হলে এটি কয়েক দশকের মধ্যে অন্যতম শক্তিশালী এল নিনোতে পরিণত হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছিল।

দেশের তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাত

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে নীলফামারীর ডিমলায়। সেখানে তাপমাত্রা ছিল ৩৬ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

অন্যদিকে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল সিলেটে, ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

একই সময়ে দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়েছে সিলেটের শ্রীমঙ্গলে, ৫৭ মিলিমিটার। রাঙামাটিতে ২৯ মিলিমিটার, সাতক্ষীরায় ২৬ মিলিমিটার, পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ২৫ মিলিমিটার এবং তাড়াশে ২৩ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। রাজধানী ঢাকায় এ সময়ে ২০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।

অর্থাৎ দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি থাকলেও বাতাসে আর্দ্রতা বেশি এবং সূর্যের তাপ থাকায় ভাদ্রের এই সময়ে বৃষ্টির মধ্যেও গরম ও অস্বস্তি অনুভূত হওয়া অস্বাভাবিক নয়।

প্রতি / এডি / শাআ

আরো সংবাদঃ

আর্কাইভ

October 2026
SSMTWTF
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31 
20G