তিস্তা মহাপরিকল্পনার উদ্বোধন ২০২৭ সালের নভেম্বরে, জানালেন প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশঃ অক্টোবর ২৯, ২০২৬ সময়ঃ ৯:৫১ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ৯:৫১ অপরাহ্ণ

বহুল আলোচিত তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে অগ্রগতির কথা জানিয়েছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৭ সালের নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রী এ প্রকল্পের কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। পূর্ণাঙ্গ উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা তৈরিতেও কাজ চলছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে লালমনিরহাট সদর উপজেলার মহেন্দ্রনগর নিষ্কাশন খাল পরিদর্শনকালে এসব তথ্য জানান প্রতিমন্ত্রী।

তিস্তা মহাপরিকল্পনার অগ্রগতি সম্পর্কে ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, নদীটি নিয়ে প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে কারিগরি পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে। নদী বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের কারিগরি কমিটি এ বিষয়ে কাজ করছে। পাশাপাশি প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ প্রায় শেষ হয়েছে। অর্থমন্ত্রী দেশে ফিরলে এ বিষয়ে অনুমোদন পাওয়ার আশা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

প্রকল্প পরিকল্পনায় দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

তিস্তা মহাপরিকল্পনা কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়া হচ্ছে বলে জানান পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসেস (সিইজিআইএস), নদী কমিশন ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) বিশেষজ্ঞদের পাশাপাশি চীন, নেদারল্যান্ডস ও মালয়েশিয়ার বিশেষজ্ঞদের পরামর্শও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

সব পক্ষের মতামত সমন্বয় করে প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) তৈরি করা হবে। কোন পদ্ধতিতে প্রকল্প বাস্তবায়ন করলে তিস্তা অববাহিকার মানুষ সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন, তা নিশ্চিত করতেই পরিকল্পনাটি বিস্তারিতভাবে প্রস্তুত করা হচ্ছে। এ কাজে আরও আট থেকে নয় মাস সময় লাগতে পারে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

উপকৃত হতে পারে উত্তরাঞ্চলের পাঁচ জেলার মানুষ

তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমবে বলে আশা প্রকাশ করেন ফরহাদ হোসেন আজাদ। তাঁর মতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে লালমনিরহাট, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী ও রংপুর জেলার প্রায় তিন কোটি মানুষ বিভিন্নভাবে উপকৃত হবেন।

তিস্তা নদীকেন্দ্রিক এ উদ্যোগের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার উন্নয়ন এবং দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের সম্ভাবনা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

১৯ নভেম্বর উদ্বোধন হবে মহেন্দ্রনগর খাল

এদিকে লালমনিরহাট সদর উপজেলার মহেন্দ্রনগর নিষ্কাশন খাল নিয়েও পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, আগামী ১৯ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী খালটির উদ্বোধন করবেন। খালটি চালু হলে এলাকার কয়েক হাজার মানুষ সরাসরি সেচসুবিধা পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

খালের দুই পাশে বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনাও রয়েছে। এর মাধ্যমে এলাকার সৌন্দর্য বৃদ্ধি এবং স্থানীয় উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

খাল পরিদর্শনের সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মুহ. রাশেদুল হক প্রধান, পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান, জেলা পরিষদের প্রশাসক এ কে এম মমিনুল হক, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী কর্মকর্তা সুনীল কুমার, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনোনীতা দাসসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

প্রতি / এডি / শাআ

আরো সংবাদঃ

আর্কাইভ

20G