একুশ আমার অহংকার

প্রকাশঃ ফেব্রুয়ারি ২১, ২০১৫ সময়ঃ ১:৫১ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ১:৫১ অপরাহ্ণ

ডেস্ক রিপোর্ট, প্রতিক্ষণ ডটকম:

58438_85মানুষকে মানুষ করেছে ভাষা। ভাষা মানুষের অসাধারণ অর্জন। এটা ছাড়া মানুষ আজকের সভ্যতার যে-সব প্রাপ্তি তাতে কোনদিন পৌঁছতে পারত না।

মানুষের মনোজগত ও বস্তুজগতের যে অসীম বিস্তার এবং প্রসার আজ বিশ্বের বিভিন্ন মানবগোষ্ঠীর সংস্কৃতিতে আমরা দেখতে পাই, তাও ভাষারই সৃষ্টি, ভাষারই অবদান।

ভাষার উপরই নির্ভর করে সমাজ ও সভ্যতার অগ্রগতি। ভাষা তাই একই সঙ্গে একটি সমাজের উৎপাদন ব্যবস্থার মৌলিক কাঠামো এবং সেই কাঠামোর উপরিসৌধ। একটি ভাষার জোর বা তার অন্তর্নিহিত শক্তির উপর নির্ভর করেই সেই ভাষায় গড়ে ওঠে তার সাহিত্য, বিজ্ঞান, শিল্প-সংস্কৃতি।

আর্থ-সামাজিক সম্পর্কের বৈচিত্র্য এবং সমৃদ্ধি যেমন ভাষা ও সাহিত্যের বহু-বৈভব ঘটায়, তেমনি ভাষার ধারণক্ষমতাই মনোজগতের ব্যপ্তির অসীম প্রসার ঘটিয়ে সাহিত্যের ও বিজ্ঞানের সীমাহীন জগতকে ব্যক্তির মনের সীমায় নিয়ে আসে। সূক্ষ্ম, বিরাট ও বিমূর্ত চিন্তা এবং সেই চিন্তাকে বাণীরূপ দেয়া কোন দুর্বল ভাষার পক্ষেই সম্ভব নয়।

বাংলা তেমনই একটা প্রশিদ্ধ ভাষার নাম। এটি একটি অত্যন্ত সবল ভাষা। এই ভাষায় আজ পর্যন্ত যে-অর্জন ঘটেছে তার সম্ভার বিরাট। তবে এই সুন্দর সাবলিল ভাষার জন্য দিতে হয়েছে বুকের তাজা রক্ত। সেই রক্ত উৎসর্গকারী বীরদের জন্যই আজ আমাদের এই অর্জন।

তাই বছর ঘুরে আবার এসেছে ভাই হারানোর ব্যাথা আর বিসর্জনের সুখ জাগানিয়া সেই দিন। আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি/ আমি কি ভুলিতে পারি…। আজ সকলের ভেতরেই একই শোকসঙ্গীতের সুর প্রবাহমান।

২১ ফেব্রুয়ারি মহান শহীদ দিবস। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। ১৯৫২ সালের এই দিনে বুক দিয়ে বুলেট রুখে দিয়েছিল রফিক, শফিক, বরকত, সালাম, জব্বাররা। তাদের রক্তে শৃঙ্খলমুক্ত হয়েছিল দুঃখিনী বর্ণমালা।

আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একটি বাংলা গান, যে গানের কথায় ১৯৫২ সালের ফেব্রুয়ারি ২১ তারিখে সংঘটিত বাংলা ভাষা আন্দোলনের করুণ ইতিহাস ফুটে উঠেছে। সাংবাদিক ও লেখক আবদুল গাফফার চৌধুরী ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারিতে গানটি রচনা করেন।

প্রথমে আবদুল লতিফ গানটি সুরারোপ করেন। তবে আলতাফ মাহমুদের করা সুরটিই অধিক জনপ্রিয়তা লাভ করে এবং এটিই এখন গানটির প্রাতিষ্ঠানিক সুর। ১৯৬৯ সালে জহির রায়হান তাঁর ‘জীবন থেকে নেওয়া’ চলচ্চিত্রে গানটি ব্যবহার করেন। বর্তমানে এই গানটি ইংরেজি, ফ্রেঞ্চ, সুইডিশ, জাপানিসহ পাঁচটি ভাষায় গাওয়া হয়।

আজ শুধু শোক নয়, শোককে শক্তিতে পরিণত করার দিন। কোন একটি অন্যায়ের বিরুদ্ধে নয় বরং সমাজের সকল অন্যায় অসাম্যর বিরুদ্ধে জ্বলে ওঠার নতুন শপথ নেবে বাঙালী। প্রতিবাদ প্রতিরোধের অগ্নিশিখা ভেতরে জ্বালিয়ে রাখার অনুপ্রেরণা গ্রহণ করবে।

এ অঞ্চলের মানুষের মুখের ভাষা কেড়ে নিতে চেয়েছিল তারা। বাংলা ভাষাভাষী মানুষের সকল অনুভূতি তুচ্ছ করে উর্দুকে পূর্ব পাকিস্তানে রফতানি করতে চেয়েছিল। এমন ষড়যন্ত্রে হতবিহব্বল হয়ে পড়েও বাংলার মানুষ নিজেদের সিদ্ধান্তে অটুট থাকে। গণচেতনাকে স্তব্ধ করার অব্যাহত ষড়যন্ত্র ও পাকিস্তানীদের গোয়ার্তুমির চূড়ান্ত প্রকাশ ঘটে ৫২’র ২১ ফেব্রুয়ারি।

মেডিক্যাল কলেজ হোস্টেল প্রাঙ্গনে পুলিশের গুলিতে রফিকের মাথার খুলি উড়ে যায় এবং সাথে-সাথে তিনি মারা যান। জব্বার, বরকত এবং সালামও মেডিক্যাল কলেজ হোস্টেল প্রাঙ্গণে গুলিবিদ্ধ হন। এরপর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়।

এই চার ভাষা শহীদ ছাড়াও ২২ ফেব্রুয়ারি বাংলাভাষা আন্দোলনের মিছিলে আরও চারজন নবাবপুর রোডে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। তারা হলেন সফিউর রহমান, আবদুল আউয়াল, অহিউল্যাহ এবং সিরাজউদ্দিন।

ভাষা শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে একুশে ফেব্রুয়ারির প্রভাত ফেরীতে এই গান গেয়ে সবাই শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে যায়। বিবিসি শ্রোতা জরিপে বাংলা ভাষার শ্রেষ্ঠ গানের তালিকায় এটি তৃতীয় স্থান লাভ করেছে।

প্রতিক্ষণ/এডি/আকিদ

 

আরো সংবাদঃ

আর্কাইভ

October 2026
SSMTWTF
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31 
20G