খাড়া পাহাড়ের ওপরে স্কুল, শিশুদের যাতায়াতে ৯৪৫ ফুট লিফট বানালো চীন

প্রকাশঃ সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ সময়ঃ ১০:৪৫ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ১০:৪৫ অপরাহ্ণ

পাহাড়ের খাড়া ঢাল বেয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা হাঁটতে হতো স্কুলগামী শিশুদের। সরু ও ঝুঁকিপূর্ণ পথ পেরিয়ে প্রতিদিনের এই যাত্রা ছিল যেমন কষ্টকর, তেমনি ছিল দুর্ঘটনার আশঙ্কাও। চীনের ইউনান প্রদেশের নিজুহে গ্রামের শিশুদের সেই দীর্ঘ ও বিপজ্জনক স্কুলযাত্রা এখন অনেকটাই সহজ হয়েছে। পাহাড়ের গিরিখাত বেয়ে তৈরি করা হয়েছে একাধিক আউটডোর লিফট, যার মধ্যে নতুনটির উচ্চতা ২৮৮ মিটার বা প্রায় ৯৪৫ ফুট।

ইউনান প্রদেশের নিজুহে গ্রামের শিক্ষার্থীদের যেতে হয় গুয়ানঝাই ভিলেজ প্রাইমারি স্কুলে। কয়েক বছর আগেও স্কুলে পৌঁছাতে তাদের পাহাড়ি পথে প্রায় তিন ঘণ্টা হেঁটে উঠতে হতো। শুধু যাওয়াই নয়, আসা-যাওয়ার পুরো পথে প্রায় ছয় ঘণ্টা সময় ব্যয় হতো তাদের।

শিক্ষার্থীদের এই দুর্ভোগ কমাতে ২০২২ সালে নিজু নদী গিরিখাতে নির্মাণ করা হয় ২৬৮ মিটার উচ্চতার একটি বহিরাঙ্গন লিফট। ছিংইউন ল্যাডার নামের এই লিফটটি পাহাড়ের খাড়া অংশ ঘেঁষে তৈরি করা হয়। এর ফলে দীর্ঘ সময় ধরে পায়ে হেঁটে পাড়ি দিতে হওয়া দুর্গম পথের বড় একটি অংশ দ্রুত অতিক্রম করার সুযোগ তৈরি হয়।

পর্যটকের ভিড়ে বাড়ে নতুন সমস্যা

লিফট চালু হওয়ার পর শুধু স্থানীয় মানুষের যাতায়াত নয়, পর্যটকদের কাছেও এটি আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে ওঠে। পাহাড়ি প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখার পাশাপাশি লিফটে চড়ার অভিজ্ঞতা নিতে বিভিন্ন স্থান থেকে পর্যটকেরা সেখানে আসতে শুরু করেন।

ফলে লিফটের সামনে তৈরি হতে থাকে দীর্ঘ সারি। স্থানীয় শিক্ষার্থীদের জন্য যাতায়াতের সুবিধাটি বিনামূল্যে রাখা হলেও পর্যটকদের ব্যাপক চাপের কারণে তাদেরও দীর্ঘ সময় লাইনে অপেক্ষা করতে হতো। এতে আগের দুর্গম পথের ভোগান্তি কমলেও নতুন করে অপেক্ষার সমস্যা তৈরি হয়।

শিক্ষার্থীদের এই দুর্ভোগ কমাতে এবার নেওয়া হয়েছে আরও বড় উদ্যোগ।

৯৪৫ ফুট উচ্চতার নতুন লিফট

পুরোনো লিফটের পাশেই সম্প্রতি চালু করা হয়েছে ২৮৮ মিটার বা ৯৪৫ ফুট উচ্চতার নতুন একটি প্যানোরামিক লিফট। এর নাম ফুয়াও ল্যাডার। পাহাড়ি গিরিখাতের ওপর দিয়ে চলা এই লিফটকে বিশ্বের অন্যতম আকর্ষণীয় বহিরাঙ্গন লিফট হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে।

নতুন লিফটটি আগেরটির তুলনায় প্রশস্ত ও দ্রুতগামী। পাশাপাশি এর পথও পুরোনো লিফটের চেয়ে প্রায় ২০ মিটার বেশি দীর্ঘ। ফলে একসঙ্গে বেশি মানুষ পরিবহনের পাশাপাশি দ্রুত যাতায়াতের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

এখন শিক্ষার্থীদের স্কুলে যেতে আগের মতো দীর্ঘ সময় পাহাড়ি পথে হাঁটতে হয় না। শাটল বাস, বহিরাঙ্গন লিফট ও কেবল কার মিলিয়ে পুরো যাত্রা শেষ করতে তাদের সময় লাগছে প্রায় ৩০ মিনিট।

ভয়ংকর পথ থেকে রোমাঞ্চকর যাত্রা

এক শিক্ষার্থী নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে জানায়, আগে স্কুলে যেতে তাকে কাঁধে নিজের জিনিসপত্র নিয়ে প্রায় তিন ঘণ্টা পাহাড়ি পথে হাঁটতে হতো। পথটি এতটাই ঝুঁকিপূর্ণ ছিল যে সামান্য অসাবধানতাতেও পিছলে পড়ে যাওয়ার ভয় থাকত।

নতুন পরিবহনব্যবস্থা চালুর পর সেই চিত্র বদলে গেছে। যে পথ একসময় ছিল শিশুদের জন্য ক্লান্তিকর ও ঝুঁকিপূর্ণ, এখন সেটিই তাদের কাছে অনেক বেশি সহজ ও উপভোগ্য হয়ে উঠেছে।

দুটি আউটডোর লিফটের সুবিধায় পাহাড়ি গ্রামের শিক্ষার্থীদের স্কুলযাত্রার সময় যেমন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, তেমনি কমেছে দুর্গম পথে দীর্ঘ সময় হাঁটার ঝুঁকিও। একই সঙ্গে এই অভিনব যাতায়াতব্যবস্থা পর্যটকদের কাছেও তৈরি করেছে ভিন্ন ধরনের আকর্ষণ।

প্রতি / এডি / শাআ

আরো সংবাদঃ

আর্কাইভ

October 2026
SSMTWTF
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31 
20G