সহিংসতার প্রভাব শিশু-কিশোরদের মনে

প্রকাশঃ জানুয়ারি ৩১, ২০১৫ সময়ঃ ১:২৭ পূর্বাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ১:২৭ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক, প্রতিক্ষণ ডটকম:

campus
অবরোধ হরতালে সহিংসতায় কোমলমতি শিশু-কিশোরদের মনে নানা বিরূপ প্রভাব পড়ছে। অবরোধের কারণে রাজধানীসহ দেশের অধিকাংশ স্কুল বন্ধ। ফলে অনেক শিশুর সময় কাটছে ঘরে। অবরোধের কারণে বাইরে যাওয়ারও জো নেই। এক্ষেত্রে তাদের বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম টেলিভিশন। কিন্তু সুইচ অন করলেই তাদের সামনে নানা বিভীষিকাময় ছবি। পেট্রাল বোমায় পুড়ে যাওয়া মানুষের ছবি দেখে তাদের কোমল হূদয় শিহরিত হয়ে উঠছে। মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, অবরোধের চিত্র শিশুদের সামনে বিভীষিকার মতো। এর ফলে দীর্ঘ মেয়াদে তাদের মনে যে প্রভাব পড়ছে তা কাটতে অনেক সময় লাগবে।

বিশিষ্ট মনোবিজ্ঞানী ফরিদা আকতার বললেন, ‘বাসায় বসে শিশুরা যখন অবরোধের সহিংসতা দেখে তখন তারা নিজেদের নিরাপত্তাহীন মনে করে। সহিংসতা নিয়ে আলোচনা করার ফলে এক ধরনের ভীতির সঞ্চার হয়।’ এক্ষেত্রে তিনি শিশুদের সামনে ইতিবাচক বিষয় আলোচনার জন্য বাবা-মা এবং অন্যদের পরামর্শ দিয়েছেন।

রাজধানীর বেশ কয়েকটি পরিবারের সাথে কথা বলে জানা যায়, অবরোধের কারণে শিশুদের স্কুল বন্ধ। ইংরেজি মাধ্যমের স্কুলগুলোর অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা শেষ হয়েছে অনেক আগেই। ক্লাস শুরু হওয়ার কথা ছিল আরো দেড় মাস আগে। কিন্তু স্কুল কর্তৃপক্ষ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্কুল বন্ধ ঘোষণা করে দিয়েছে। এর ফলে হাজার হাজার শিশুর সময় কাটছে বাসায় বসে।

এদিকে হরতাল-অবরোধে শিশুদের স্কুল বন্ধ থাকলেও স্কুল কর্তৃপক্ষ প্রতিমাসের বেতন এবং টিউশন ফি নিয়মিত আদায় করে নিচ্ছে। স্কুল কর্তৃপক্ষ অনলাইনে শিশুদের হোমওয়ার্ক দিয়ে দিচ্ছে। মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে সেটা আবার জানিয়েও দিচ্ছে।

অপরদিকে অবরোধ এবং হরতালের কারণে শুধু শিশুদের স্কুল নয়, বিনোদনও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। প্রায় এক মাস ধরে তারা প্রায় গৃহবন্দী। বাইরের সহিংসতার ভয়ে অভিভাবকরা তাদের ঘরের বাইরে নিতে চান না। অর্ধবার্ষিক পরীক্ষার পর যারা শিশুদের নিয়ে বেড়াতে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন তারা তাদের পরিকল্পনা বাদ দিয়েছেন।

বাচ্চাদের স্কুল বন্ধ থাকায় তাদের জীবন থেকে শৃঙ্খলা চলে যাচ্ছে বলে মনে করেন মনোবিজ্ঞানীরা। ফরিদা আকতার বলেন, ‘যে বাচ্চাটি সকালে ঘুম থেকে উঠে নাস্তা সেরে স্কুলে যেত, সে বাচ্চাটি এখন কখন ঘুম থেকে উঠছে, কখন নাস্তা করছে তার ঠিক নেই। এতে তার জীবনে চরম বিরক্তির জন্ম হচ্ছে। দীর্ঘ মেয়াদে এ অবস্থা চলতে থাকলে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা মুশকিল হবে।

প্রতিক্ষণ/এডি/পলাশ

আরো সংবাদঃ

আর্কাইভ

October 2026
SSMTWTF
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31 
20G