ডেথ ভ্যালির রহস্যময় পাথর, যেগুলো নাকি নিজেরাই চলতে পারে!
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় অবস্থিত ডেথ ভ্যালি পৃথিবীর সবচেয়ে উষ্ণ, শুষ্ক ও রুক্ষ স্থানগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত। এই মরুভূমিকে ঘিরে রয়েছে নানা রহস্যময় ঘটনা। কখনো বহু বছর পর হঠাৎ মরুভূমিজুড়ে ফুটে ওঠে রঙিন ফুলের সমারোহ, আবার কখনো তৈরি হয় অস্থায়ী হ্রদ। তবে ডেথ ভ্যালির সবচেয়ে আলোচিত রহস্য হলো এখানকার “চলন্ত পাথর”।
ডেথ ভ্যালির দুর্গম অংশে রয়েছে রেসট্র্যাক প্লায়া নামে শুকিয়ে যাওয়া এক বিশাল হ্রদ। এখানকার শুকনো কাদামাটির ওপর ছড়িয়ে আছে বিভিন্ন আকারের শত শত পাথর। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এসব পাথরের অনেকগুলো নিজে নিজেই স্থান পরিবর্তন করে এবং পেছনে লম্বা দাগ ফেলে যায়। বিজ্ঞানীরা এগুলোকে “ভাসমান পাথর” বলেও উল্লেখ করেন।
কিছু পাথরের ওজন প্রায় ৩২০ কিলোগ্রাম পর্যন্ত। এত ভারী পাথর কীভাবে মরুভূমির মাটির ওপর দিয়ে এগিয়ে যায়, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধোঁয়াশা ছিল। কেউ মনে করতেন প্রবল বাতাস পাথরগুলো সরিয়ে নেয়, আবার কেউ বলতেন বৃষ্টির পর কাদামাটির ওপর তৈরি হওয়া পিচ্ছিল স্তরের কারণে এমনটা ঘটে। কিন্তু কেউ কখনো নিজের চোখে এই পাথরগুলোকে চলতে দেখেননি।
অবশেষে ২০১৩ সালে এই রহস্য সমাধানে মাঠে নামেন প্রত্নজীববিদ রিচার্ড নরিস ও তাঁর গবেষক দল। তারা কয়েকটি পাথরের গায়ে জিপিএস ট্র্যাকার বসান এবং এলাকায় আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ যন্ত্র স্থাপন করেন।
গবেষকদের ধারণা ছিল, ফল পেতে হয়তো বহু বছর অপেক্ষা করতে হবে। কিন্তু সৌভাগ্যবশত মাত্র দুই বছরের মধ্যেই তারা ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করতে সক্ষম হন।
শীতকালে বৃষ্টির কারণে শুকনো হ্রদের ওপর অল্প গভীরতার পানি জমে। রাতে তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নিচে নেমে গেলে সেই পানির ওপর পাতলা বরফ তৈরি হয়। পরে সকালে সূর্যের তাপে বরফ ভাঙতে শুরু করে। তখন বরফের বড় বড় টুকরো বাতাসের ধাক্কায় ধীরে ধীরে এগিয়ে যায় এবং সেই বরফের চাপে পাথরগুলোও কাদামাটির ওপর দিয়ে সরে যেতে থাকে।
এই পুরো প্রক্রিয়াটি খুব ধীরে ঘটে বলে খালি চোখে সহজে বোঝা যায় না। গবেষকদের মতে, একই সঙ্গে চারপাশের বরফ ও পাথর নড়তে থাকায় মানুষের চোখে সেগুলো স্থির বলেই মনে হয়।
২০১৪ সালে গবেষক দলটি তাদের গবেষণার ফল প্রকাশ করলে ডেথ ভ্যালির চলন্ত পাথরের রহস্যের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা সামনে আসে। তবে এখনো একটি প্রশ্ন পুরোপুরি সমাধান হয়নি। সবচেয়ে ভারী পাথরগুলোও ঠিক একই প্রক্রিয়ায় নড়ে কি না, তা নিয়ে গবেষণা এখনো চলছে।
বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, প্রকৃতির এই অদ্ভুত ঘটনাটি বুঝতে ভবিষ্যতেও আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।
প্রতি / এডি / শাআ













