গ্যাস সংকটে বাড়ছে মাটির চুলার ব্যবহার

প্রকাশঃ আগস্ট ১৪, ২০২৬ সময়ঃ ১০:২২ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ১০:২২ অপরাহ্ণ

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে গ্যাসের তীব্র সংকটে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা এই পরিস্থিতিতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের স্বাভাবিক রান্নাবান্না ব্যাহত হচ্ছে। অনেক পরিবার দিনের পর দিন পর্যাপ্ত গ্যাস না পাওয়ায় বিকল্প জ্বালানির ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, গ্যাসের চাপ না থাকায় অনেক পরিবার আধুনিক রান্নার ব্যবস্থা ছেড়ে মাটির চুলা ও কাঠের দিকে ফিরেছে। কেউ বাড়ির আঙিনায়, আবার কেউ ঘরের বাইরে অস্থায়ীভাবে চুলা তৈরি করে রান্নার ব্যবস্থা করছেন।

বাসিন্দাদের অভিযোগ, শুধু দিনের বেলাই নয়, রাত কিংবা ভোরেও অনেক সময় গ্যাসের চাপ পাওয়া যায় না। ফলে নির্ধারিত সময়ে রান্না করা সম্ভব হচ্ছে না। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও চুলা না জ্বললে শেষ পর্যন্ত কাঠ বা সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহার করতে হচ্ছে।

স্থানীয়দের একটি বড় অংশ এই সংকটের জন্য এলাকায় থাকা অবৈধ চুন কারখানাগুলোকেও দায়ী করছেন। তাদের অভিযোগ, সোনারগাঁয়ের বিভিন্ন স্থানে গড়ে ওঠা অবৈধ চুন কারখানাগুলো অবৈধভাবে গ্যাস ব্যবহার করে দিন-রাত উৎপাদন চালিয়ে যাচ্ছে। এতে বৈধ গ্রাহকদের জন্য গ্যাসের চাপ আরও কমে যাচ্ছে এবং সংকট দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে।

এলাকাবাসীর দাবি, অবৈধ এসব কারখানার বিরুদ্ধে দ্রুত অভিযান চালিয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে হবে। পাশাপাশি গ্যাস চুরির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

একজন স্থানীয় গৃহিণী বলেন, দিনের সময় তো গ্যাস পাওয়া যায়ই না, অনেক সময় গভীর রাত কিংবা ভোরেও চুলায় গ্যাসের চাপ থাকে না। ফলে রান্নার জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়।

পৌরসভা এলাকার বাসিন্দা সুমনা আক্তার বলেন, গ্যাস আসার অপেক্ষায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা কেটে যায়। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে কাঠ দিয়ে মাটির চুলায় রান্না করতে হচ্ছে। এতে বাড়তি অর্থ খরচের পাশাপাশি সময়ও নষ্ট হচ্ছে। কাঠ পোড়ানোর ধোঁয়ায় স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে বলে জানান তিনি।

মেঘনা শিল্পাঞ্চল এলাকার বাসিন্দা নিলা আক্তারের ভাষ্য, চুলায় এতটাই কম চাপ থাকে যে রান্না করা প্রায় অসম্ভব। নিয়মিত গ্যাস বিল পরিশোধ করেও রান্নার জন্য কাঠ অথবা অতিরিক্ত টাকা খরচ করে সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে। এতে পরিবারের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে।

তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির মেঘনা শাখার ব্যবস্থাপক সুরজিত সাহা জানান, সোনারগাঁয়ের গ্যাস সংকটকে শুধু স্থানীয় সমস্যা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি জাতীয় পর্যায়ের গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির সঙ্গেও সম্পর্কিত।

তিনি বলেন, প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে এলএনজিবাহী জাহাজ থেকে গ্যাস খালাসে সমস্যা হওয়ায় জাতীয়ভাবে গ্যাস সরবরাহ কমেছে। জাতীয় গ্রিড থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী গ্যাস বরাদ্দ না পাওয়ায় স্থানীয় গ্রাহকদের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না।

তবে অবৈধ গ্যাস সংযোগ ও চুরির অভিযোগের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিতাসের এই কর্মকর্তা। তার মতে, অবৈধ ব্যবহার শনাক্ত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

দীর্ঘদিনের সংকট, বাড়তি জ্বালানি ব্যয় এবং অবৈধ কারখানার অভিযোগে ক্ষুব্ধ সোনারগাঁবাসী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, অবৈধ চুন কারখানাগুলোর বিরুদ্ধে দ্রুত অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। এজন্য সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপও কামনা করেছেন তারা।

প্রতি / এডি / শাআ

আরো সংবাদঃ

আর্কাইভ

October 2026
SSMTWTF
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31 
20G