ফোন চুরি হলেও সিম খুলতে পারবে না চোর, ই-সিমে মিলবে বাড়তি নিরাপত্তা

প্রকাশঃ আগস্ট ২৫, ২০২৬ সময়ঃ ৮:৩৭ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ৮:৩৭ অপরাহ্ণ

স্মার্টফোন হারানো বা চুরি হওয়ার পর সেটি খুঁজে বের করা এবং দূর থেকে নিয়ন্ত্রণে রাখার ক্ষেত্রে মোবাইল নেটওয়ার্কের সংযোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এই জায়গায় প্রচলিত সিম কার্ডের তুলনায় ই-সিম কিছু বাড়তি সুবিধা দিতে পারে। কারণ, ই-সিম ফোনের ভেতরেই ডিজিটালভাবে সংযুক্ত থাকে। ফলে সাধারণ সিম কার্ডের মতো এটি খুলে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া যায় না।

ই-সিম হচ্ছে এমন একটি ডিজিটাল সিম ব্যবস্থা, যেখানে আলাদা প্লাস্টিকের কার্ড ব্যবহারের প্রয়োজন হয় না। অপারেটরের দেওয়া সিম প্রোফাইল ফোনের নির্দিষ্ট চিপে সংরক্ষিত থাকে। সেটি সক্রিয় হওয়ার পর মোবাইল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে কল, বার্তা ও ইন্টারনেট ব্যবহারের সুবিধা পাওয়া যায়।

ফোন চুরি হওয়ার পর সেটি যদি চালু থাকে এবং ই-সিম সক্রিয় থাকে, তাহলে মোবাইল নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংযোগ বজায় থাকার সম্ভাবনা থাকে। একই সঙ্গে ইন্টারনেট চালু থাকলে বিভিন্ন ডিভাইস খোঁজার সেবার সাহায্যে ফোনের অবস্থান শনাক্ত করা, দূর থেকে সেটি লক করা কিংবা প্রয়োজন হলে সংরক্ষিত তথ্য মুছে ফেলার সুযোগ থাকতে পারে।

অন্যদিকে, ফিজিক্যাল সিম সহজেই ফোন থেকে খুলে ফেলা যায়। চোর ফোন হাতে পাওয়ার পর সিমটি বের করে ফেললে মোবাইল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ডিভাইসটির সঙ্গে মালিকের সংযোগ দুর্বল হয়ে যেতে পারে। এ কারণে ফোন হারানোর পর ফিজিক্যাল সিম খুলে নেওয়া মালিকের জন্য বাড়তি সমস্যা তৈরি করতে পারে।

ই-সিমের আরেকটি সুবিধা হলো, ফোন থেকে সেটি খুলে অন্য কোনো ডিভাইসে সরাসরি বসিয়ে ব্যবহার করা সম্ভব নয়। ফিজিক্যাল সিমের ক্ষেত্রে কার্ডটি খুলে অন্য ফোনে ব্যবহার করা যায়। এর ফলে চুরি যাওয়া ফোনের নম্বরের মাধ্যমে কল, বার্তা কিংবা বার্তাভিত্তিক যাচাইকরণ কোডে প্রবেশের চেষ্টা করা হতে পারে।

তবে ই-সিম ব্যবহার করলেই যে ফোন বা মোবাইল নম্বর পুরোপুরি নিরাপদ হয়ে যাবে, এমন নয়। অপারেটরের অ্যাকাউন্টে অননুমোদিত প্রবেশ, সিম-সংক্রান্ত প্রতারণা কিংবা সামাজিক কৌশলে তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার মতো ঝুঁকি থেকেই যায়। তাই ফোনে শক্তিশালী পাসকোড ও বায়োমেট্রিক লক ব্যবহার করার পাশাপাশি মোবাইল অপারেটরের অ্যাকাউন্টেও অতিরিক্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা রাখা জরুরি।

স্মার্টফোন হারিয়ে গেলে দ্রুত কিছু পদক্ষেপ নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমে নিকটস্থ থানায় সাধারণ ডায়েরি করা যেতে পারে। এরপর মোবাইল অপারেটরের সঙ্গে যোগাযোগ করে সংশ্লিষ্ট নম্বর বা ই-সিম বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে ফোনের ট্র্যাকিং সুবিধা ব্যবহার করে ডিভাইসটি লক করা উচিত। প্রয়োজন হলে দূর থেকেই ফোনে থাকা ব্যক্তিগত তথ্য মুছে ফেলা যায়।

পরবর্তীতে নতুন ফোনে একই মোবাইল নম্বরের ই-সিম আবার চালু করা সম্ভব। তাই ফোন হারানোর ঝুঁকি পুরোপুরি ঠেকাতে না পারলেও, সিমটি সহজে খুলে নেওয়ার সুযোগ না থাকায় ই-সিম নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটি বাড়তি স্তর তৈরি করতে পারে।

প্রতি / এডি / শাআ

আরো সংবাদঃ

আর্কাইভ

October 2026
SSMTWTF
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31 
20G