অভিজিৎ স্মরণে শেষ হলো প্রাণের মেলা

প্রকাশঃ ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০১৫ সময়ঃ ৯:৪৫ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ৯:৪৮ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক, প্রতিক্ষণ ডট কম

015716082_30300শেষ হলো প্রাণের মেলা। শনিবার রাত ৮টার দিকে অমর একুশে গ্রন্থমেলার পর্দা পড়লো। সমাপণী অনুষ্ঠানের শুরুতে ব্লগার অভিজিৎ রায়কে স্মরণ করে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এরপর শুর হয় অতিথিদের বক্তব্য প্রদান। প্রত্যেকের ব্ক্তব্যেই অভিজিৎ হত্যার নিন্দা এবং ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।

অভিজিতের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে আমন্ত্রীত অতিথিদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক ড. শামসুজ্জামান খান। এরপর শুরু হয় মূল আলোচনা।

মহাপরিচালক ড. শামসুজ্জামান খানের শুভেচ্ছা বক্তব্যের মাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়। শুভেচ্ছা বক্তব্যে শামসুজ্জামান খান বলেন, ‘মেলা শেষ হয়ে যাচ্ছে, এটি এক সঙ্গে আনন্দের এবং বেদনার। আনন্দের কারণ, জাতিকে একমাস ব্যাপী সুন্দর একটি বইমেলা উপহার দিতে পেরেছে বাংলা একাডেমি। আর অন্যদিকে বেদনার কারণ, ২০০৪ সালের হুমায়ুন আজাদের ন্যায় বুদ্ধিদীপ্ত লেখক অভিজিৎ রায়কে হারিয়েছি। যা অত্যন্ত বেদনার এবং নিন্দার।’

গণমাধ্যমকে এবং বিভিন্ন সেবা প্রতিষ্ঠানকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি তার শুভেচ্ছা বক্তব্য শেষ করেন।

এরপর মেলার প্রতিবেদ উপস্থাপন করেন অমর একুশে গ্রন্থমেলা-২০১৫ এর সদস্য সচিব ড. জালাল আহমেদ। প্রতিবেদনে তিনি জানান, এবারের বই মেলায় মোট প্রায় ২২ কোটি টাকার বই বিক্রি হয়েছে। যা গতবারের চেয়ে ২ কোটি টাকা বেশি। তিনি বলেন, ‘হরতাল-অবরোধ না থাকলে আশা করছিলাম বিক্রি বেড়ে দাঁড়াতো প্রায় ৩০ কোটি টাকায়।’

ড. জালাল আরো জানান, বাংলা একাডেমি এবার রেকর্ড সংখ্যক টাকার বই বিক্রি করেছে। যার মূল্য প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের সচিব ড. রণজিৎ কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘প্রতিবছরের মেলার সাথে আগের বছরের মেলার প্রতিযোগিতামূলক মন মানসিকতা থাকা উচিৎ। তাহলে মেলার উৎকর্ষতা সাধন হবে।’

অভিজিত রায়কে নিয়ে তিনি বলেন, ‘অভিজিৎ রায় বসে আছেন পুরো মেলা জুড়ে। আমরা যেন কলমের জবাব কলমে দিতে পারি সে মন মানসিকতা তৈরি করা উচিৎ।’

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেন, ‘এই মেলার মাধ্যমেই প্রতিফলিত হয় যে বাঙালি জাতি একটি অসাম্প্রদায়িক জাতি।’

অভিজিৎ রায় সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘অভিজিতকে যারা হত্যা করেছে তারা আইএসের ন্যায় উল্লাস করছে। অভিজিৎ রায়ের মৃত্যু বৃথা যাবে না। গত দুই দিন মানুষের যে বিপুল উপস্থিতি তা অভিজিতের মৃত্যুর প্রতিবাদ।’

সভাপতির বক্তব্যে এমেরিটাস অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান বলেন, ‘বন্ধু অজয় রায়ের পুত্র অভিজিৎ রায়ের হত্যার তীব্র নিন্দা এবং ক্ষোভ জানাচ্ছি। বাংলাদেশ বিরোধীরা একুশে গ্রন্থমেলাকে বধ্যভূমি করার চেষ্টায় লিপ্ত। তাই আমাদের যুদ্ধ করতে হবে জাতিকে আরো সভ্য করার।’

সমাপনী অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন- যুক্তরাজ্য উদীচীর সভাপতি গোলাম মোস্তফা এবং টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের উপ মহাব্যবস্থাপক শাহ জুলফিকার হায়দার।

প্রতিক্ষণ/এডি/নয়ন

আরো সংবাদঃ

আর্কাইভ

October 2026
SSMTWTF
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31 
20G