বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে এস্তোনিয়া

প্রকাশঃ আগস্ট ১২, ২০২৬ সময়ঃ ৯:২৯ অপরাহ্ণ.. সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ৯:৪৪ অপরাহ্ণ

ই-গভর্নেন্স, ডিজিটাল প্রযুক্তি এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করতে আগ্রহ দেখিয়েছে ইউরোপের দেশ এস্তোনিয়া। পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, স্বাস্থ্যকর্মী, প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন খাতের দক্ষ বাংলাদেশি কর্মী নেওয়ার বিষয়েও ইতিবাচক অবস্থান জানিয়েছে দেশটি।

সোমবার (১০ আগস্ট) এস্তোনিয়ার রাজধানী তাল্লিনে বাংলাদেশ ও এস্তোনিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তর পর্যায়ের বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা ও সমঝোতা হয়। দুই দেশের মধ্যে এটি ছিল দ্বিতীয় দফার ফরেন অফিস কনসালটেশন।

বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দ্বিপক্ষীয় (পূর্ব ও পশ্চিম) সচিব মো. নজরুল ইসলাম। এস্তোনিয়ার প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল বিভাগের প্রধান মাতি মুর্দ। আলোচনায় দুই দেশের রাজনৈতিক ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বৈঠকের অন্যতম প্রধান বিষয় ছিল তথ্যপ্রযুক্তি ও ডিজিটাল রূপান্তর। ডিজিটাল পরিচয় ব্যবস্থা, নিরাপদ তথ্য আদান-প্রদান, উদ্ভাবন এবং ই-গভর্নেন্সে বাংলাদেশকে কারিগরি সহযোগিতা দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে এস্তোনিয়া। দেশটির কয়েকটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও বিনিয়োগকারী বাংলাদেশে বিনিয়োগ এবং স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করতে আগ্রহী বলেও জানানো হয়।

দক্ষ জনশক্তি নিয়ে আলোচনায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের ‘ট্যালেন্ট পার্টনারশিপ’ কর্মসূচির মাধ্যমে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য সুযোগ তৈরির বিষয়টি উঠে আসে। তথ্যপ্রযুক্তি, পরিচর্যা সেবা, নির্মাণ, আতিথেয়তা, পর্যটন, কৃষি ও কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণসহ বিভিন্ন খাতে বাংলাদেশ থেকে দক্ষ কর্মী নেওয়ার বিষয়ে দুই পক্ষ আলোচনা করে।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে দুই দেশের বেসরকারি খাতের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশি পণ্যের মধ্যে তৈরি পোশাক, পাট ও পাটজাত পণ্য এবং ওষুধ শিল্পের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে এস্তোনিয়ার ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে বিনিয়োগের আহ্বান জানানো হয়েছে।

বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারে দুই দেশের মধ্যে একটি যৌথ কার্যকরী দল গঠন এবং শীর্ষ বাণিজ্য সংগঠনগুলোর মধ্যে সমঝোতা স্মারক সইয়ের প্রস্তাবও আলোচনায় আসে।

এ ছাড়া দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের পারস্পরিক সফর, সংসদীয় বন্ধুত্ব গোষ্ঠী গঠন, শিক্ষা ও গবেষণা সহযোগিতা, ক্রীড়া এবং শিক্ষার্থী ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। পর্যটন খাতের উন্নয়ন এবং দ্বৈত কর পরিহার, বিনিয়োগ সুরক্ষা ও শিল্প সহযোগিতাসহ কয়েকটি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি দ্রুত সম্পন্ন করার ব্যাপারেও উভয় পক্ষ আগ্রহ প্রকাশ করে।

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন ফোরামে পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়েও দুই দেশ একমত হয়েছে। বিশেষ করে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে এস্তোনিয়া।

বৈঠকের আগে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল এস্তোনিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ন্যাটো ও ট্রান্সআটলান্টিক সম্পর্ক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত আন্ডার সেক্রেটারি কারিন মান্দির সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজ বৈঠকে অংশ নেয়। সেখানে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

প্রতি / এডি / শাআ

আরো সংবাদঃ

আর্কাইভ

October 2026
SSMTWTF
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31 
20G